সর্বশেষ সংবাদ :

২ বছর পর পাসপোর্ট পাচ্ছেন জিএম কাদের ও তার স্ত্রী

সানশাইন ডেস্ক: অবশেষে পাসপোর্ট পেতে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও তার স্ত্রী শরিফা কাদের। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে জিএম কাদের ও তার স্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়। এরপর তারা সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনে সাড়া দেয় না বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। অবশেষে বর্তমান বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানিয়েছে, গত ১৫ জুন জিএম কাদেরকে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে অনাপত্তি জানিয়ে অধিদফতরে চিঠি দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তৎকালীন সময় জিএম কাদের সংসদ সদস্য ছিলেন। তার স্ত্রীও ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য। সরকার পতন হলে তাদের দুজনেরই কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। তারা সেই পাসপোর্ট জমাও দেন। পরবর্তী সময়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য উত্তরার পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেন। আবেদনের পর ওই বছরের ২৮ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে অধিদফতর থেকে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু তৎকালীন সময়ে সেই চিঠির কোনও জবাব দেয়নি মন্ত্রণালয়। সেই সুবাদে তারা তখন থেকেই পাসপোর্টবিহীন রয়েছেন।
অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়, জিএম কাদের ও শেরিফা কাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণ করে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস উত্তরায় আবেদন দাখিল করেন। এরপর গোয়েন্দা সংস্থা থেকে মতামত চাওয়া হয়।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএম কাদের এবং শরিফা কাদেরের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় এক কিশোরসহ দুই জন হত্যার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও জিএম কাদের নিজেকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণার পর ২০২২ সালের ১৫ জুন গাজীপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে জাপার গাজীপুর মহানগর কমিটির সদস্য কাজী মনির হোসেন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন নির্বাচনে অর্থের বিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনকারীর বিপরীতে গ্রেফতারি পরোয়ানা বা সাজা পরোয়ানার কোনও তথ্য পাওয়া যায় নাই। আবেদনকারী ফৌজদারি মামলায় উপস্থিতি এড়াইতেছেন বা এড়াইবার চেষ্টায় আছেন বলে প্রতীয়মান হয় নাই এবং মামলা ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিরূপ কোনও তথ্য নেই। আবেদনকারীর অনুকূলে পাসপোর্ট দেওয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনর উল্লেখ করে পাসপোর্ট অধিদফতরের এই পত্রের আর কোনও জবাব দেয়নি মন্ত্রণালয়। সে কারণে অধিদফতর থেকে পাসপোর্টও দেওয়া হয়নি।
এদিকে গত ১৫ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কালাম সই করা একটি পত্র অধিদফতরে পাঠানো হয়। সেখানে জিএম কাদের ও তার স্ত্রীকে পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে কোনও আপত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের পর তাদের পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে।
অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনও আপত্তি জানানো হয়নি, সেহেতু খুব দ্রুতই তারা পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।


প্রকাশিত: জুন ২০, ২০২৬ | সময়: ৪:০০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ

আরও খবর