সর্বশেষ সংবাদ :

ঈশ্বরদীর আলোচিত দাদি ও নাতনি হত্যাকান্ডের অভিযুক্তর ফাঁসির দাবি

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীর আলোচিত দাদি সুফিয়া বেগম (৬৫) ও নাতনি জামেলা আক্তার (১৫) হত্যা মামলার অভিযুক্ত আসামী শরিফুল ইসলাম শরীফের ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসীর আয়োজনে বৃহস্পতিবার ১৮ জুন সকালে ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কের দাশুড়িয়া কালিকাপুর বাজার এলাকায় বিশাল আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে এলাকার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী এবং কয়েকটি গ্রামের প্রায় হাজারও মানুষ অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ঘটনার প্রায় চার মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড কার্যকরের দাবি জানান তারা।
আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন নিহত সুফিয়া বেগমের ছেলে জয়নাল খাঁ, মেয়ে মর্জিনা খাতুন, নিহত জামেলার বোন মিতু খাতুন, কালিকাপুর মাদ্রাসার সুপার সাজেদুল আলম আজেমী, এলাকাবাসী মিঠু প্রামানিক, ইমদাদুল হক, বাহাদুর প্রামানিক ও স্কুল শিক্ষার্থী মারুক হোসেন প্রমূখ।
টানা প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ থাকায় সড়কের উভয় পাশে অন্তত ৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের স্বজন, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে আশ্বস্ত করলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
এলাকাবাসী জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তর পাড়া গ্রামে দাদী সুফিয়া বেগম (৬৫) ও নাতনী মাদ্রাসা শিক্ষার্থী জামেলা আক্তার (১৫) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। লোমহর্ষক ওই জোড়া হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুরো ঈশ্বরদী জুড়েই শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করে। সেই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শরীফ একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।
তিনি সম্পর্কে নিহত কিশোরীর প্রতিবেশী চাচা এবং পেশায় ট্রাক চালক। সে সময় শরীফ পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং তাতে নাতনির বাঁধার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভ থেকেই তিনি সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫) কে খুন করেন।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে মামলার প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য হাতে আসলেই মামলার চার্জশিট প্রদান করা হবে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দেবে আদালত।


প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬ | সময়: ৪:২০ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ