সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে গভীর রাতে ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়েন তিন যুবক। দুষ্কৃতিকারী সন্দেহে একটি হাঁসুয়া সহ তাঁদের আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য ছিলেন। পরে রাতইে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে নিয়ে যান। বাকি দুজনকে থানায় নেওয়া হলেও রাতভর আটকে রাখার পর রোববার সকালে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় থানা পুলিশ। ঘটনাটি শনিবার দিবাগত গভীর রাতে আক্কেলপুর-জয়পুরহাট সড়কের কেসের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তারা হলেন, জয়পুরহাট শহরের হাড়াইল বাবুপাড়া এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে সামিউল ইসলাম এবং তার ভাই বিজিবি সদস্য শোয়াইব ইসলাম, একই এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে সাগর হোসেন। সামিউল ইসলাম জয়পুরহাট শহরের হাড়াইল বাস টার্মিনাল এলাকার একটি গ্যারেজের মেকানিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর-জয়পুরহাট সড়কের কেসের মোড় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাইপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। হরহামেশাই সেখানে রাতে চলাচলকারী বিভিন্ন গাড়ির পথরোধ করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ কারণে সেখানে নিয়মিত পুলিশ টহল দেওয়া হয়।
শনিবার রাত ১২টার দিকে টহলরত পুলিশ সড়কের পাশে একটি প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যায়। এ সময় সেখানে থাকা ব্যক্তিদের কাছে একটি হাঁসুয়া পাওয়া যায়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় টহল পুলিশ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরে তাদের আটক করে পুলিশ।
সড়কে হাঁসুয়া সহ তিনজনকে আটকের খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার উপ-পরিদর্শক গণেশ চন্দ্র অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে বিষয়টি জানার পর জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেনও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিজেকে বিজিবির সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পরে রাতেই বিজিবির একটি গাড়ি এসে তাঁকে নিয়ে যায়।
আটককৃতরা পুলিশকে জানান, জয়পুরহাট আদালতের আইনজীবী উজ্জ্বল হোসেন আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পর তাঁর প্রাইভেট কার বিকল হয়ে পড়ে। পরে তিনি গ্যারেজের মেকানিক সামিউল ইসলামকে ফোন করে গাড়ি মেরামতের জন্য ডেকে নেন। সামিউল সেখানে গিয়ে গাড়ি মেরামত করে রাত নয়টার দিকে মোটরসাইকেলে করে জয়পুরহাট শহরে ফেরার পথে কেসের মোড় এলাকায় তার ব্যবহৃত একটি ফোন সড়কে পড়ে যায়। পরে সেখানে ফিরে গিয়ে ফোনের কভার পেলেও ফোনটি খুঁজে পাননি। এরপর তাঁরা জয়পুরহাটে ফিরে যান।
রাত ১২টার দিকে একটি প্রাইভেট কারে করে তিনজন আবার ঘটনাস্থলে আসেন ফোন খুঁজতে। তাঁরা সড়কের পাশের আগাছা পরিষ্কার করে হারিয়ে যাওয়া ফোন খুঁজছিলেন। আগাছা কাটার জন্য তাঁদের কাছে একটি হাঁসুয়া ছিল। এ সময় পুলিশ এসে সন্দেহ হলে তাঁদের আটক করে।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা বলেন, গভীর রাতে ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় একটি প্রাইভেট কার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে টহল পুলিশ সন্দেহ করে। সেখানে থাকা ব্যক্তিদের কাছে একটি হাঁসুয়া পাওয়া যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাঁদের বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় সকালে মুচলেকা নিয়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় বিজিবি-২০ জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারীর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কল রিসিভকারী একজন জানান, তিনি ব্যস্ত আছেন। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এ কারণে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।