, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ বিশ্বকাপের আবেগ দৃশ্যমান হচ্ছে। সংস্কার করা স্টেডিয়াম, লাখো দর্শককে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত আয়োজক শহর এবং বিশ্বজুড়ে প্রচারণার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের মাসকটও আবার বড় আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।
আয়োজক তিন দেশ নিজেদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে মিল রেখে মাসকট বেছে নিয়েছে। মেক্সিকোর প্রতীক জাগুয়ার, কানাডার মাসকট মুস। আর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নিজেদের লড়াকু মানসিকতা তুলে ধরতে বেছে নিয়েছে প্রাণীর প্রতীক। এটি নিছক কাকতালীয় নয়।
তিন দশকেরও বেশি আগে, ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে একটি কুকুরকে বানিয়েছিল নিজেদের বিশ্বকাপের মাসকট। সেই মাসকট ‘স্ট্রাইকার’ আজও টুর্নামেন্ট ইতিহাসের স্মরণীয় চরিত্রগুলোর একটি।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে স্ট্রাইকারের আগমন ছিল ফিফার মাসকট ইতিহাসে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের সিংহের পর কোনো আয়োজক দেশ প্রাণীকে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক মুখ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র সেই ধারণাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনে এবং সেটিকে আমেরিকান টেলিভিশন অ্যানিমেশনের ঘরানার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স অ্যানিমেশনের তৈরি স্ট্রাইকারের নকশায় ছিল ক্লাসিক মার্কিন কার্টুনের ছাপ। সাদা জার্সিতে লাল ও নীলের ছোঁয়া, মুখে স্থায়ী হাসি আর বন্ধুত্বপূর্ণ চরিত্র। সব মিলিয়ে দ্রুতই শিশু-কিশোর থেকে বড়দের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মাসকট।
স্ট্রাইকার শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিজ্ঞাপন, টেলিভিশন প্রচারণা এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপের নানা আনুষ্ঠানিক পণ্যে দেখা যায় তাকে। প্লাশ টয়, টি-শার্ট, কাপ থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন প্রচারণা, সবকিছু মিলিয়ে সেই বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় প্রতীক হয়ে ওঠে স্ট্রাইকার।
তার চরিত্রে মিল খুঁজে পাওয়া যেত মার্কিন টেলিভিশনের জনপ্রিয় চরিত্র হাকলবেরি হাউন্ডের সঙ্গেও। ১৯৫৮ সালে সিবিএসের তৈরি নীল রঙের কথা বলা সেই কুকুর ছিল আমেরিকান পপ সংস্কৃতির পরিচিত নাম। সেই সংযোগ যুক্তরাষ্ট্রকে ফুটবল ঘিরে আলাদা এক সাংস্কৃতিক পরিচয় তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। কারণ তখনও দেশটিতে ফুটবল নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করার লড়াইয়ে ছিল।
৩২ বছর পর আবারও প্রাণীর প্রতীকে নিজেদের বিশ্বকাপ পরিচয় গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ বিশ্বকাপে দেশটির প্রতিনিধি মাসকট ‘ক্লাচ’একটি বোল্ড ঈগল। পুরো নীল সাজে তৈরি এই চরিত্র যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রতীক হয়ে উঠবে।
এই বাছাইও পরিকল্পিত। বোল্ড ঈগল মার্কিন সংস্কৃতিতে দেশপ্রেম, শক্তি ও নেতৃত্বের শক্তিশালী প্রতীক। ফিফা ও স্থানীয় আয়োজকরাও এই মাসকটের মাধ্যমে আশাবাদ, সাহস এবং মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত বিশ্বকাপে এই প্রতীককে বড় তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
স্ট্রাইকার যে আবেগ ও স্মৃতি রেখে গিয়েছিল, ক্লাচ যেন তারই উত্তরসূরি। ১৯৯৪ সালের কুকুর এবার জায়গা করে দিয়েছে ঈগলকে। তবে নীল রঙের উপস্থিতি রয়ে গেছে আগের মতোই, যেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ পরিচয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ইঙ্গিত। ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তাই মাসকট ঘিরে তৈরি হচ্ছে আলাদা আগ্রহ। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা নিজেদের প্রতীকী চরিত্র দিয়ে ফুটবল উৎসবের সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি করতে শুরু করেছে।