, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: দুই টেস্টজুড়েই ছিল বাংলাদেশের দাপট। ব্যাটে ধৈর্য, বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ আর নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাস।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানকে একরকম অসহায়ই দেখিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। টানা দ্বিতীয়বার টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এবার বাংলাদেশের প্রশংসায় মুখর সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাসিত আলী। তার চোখে, বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের জন্য ঠিক অস্ট্রেলিয়া কিংবা ইংল্যান্ডের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ।
সিরিজ শুরুর আগেই বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন বাসিত। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের প্রভাব যে বড় হতে পারে, সেটাও আগাম বলেছিলেন তিনি। সিরিজ শেষে সেই কথাই যেন বাস্তবে মিলেছে। বাসিত আলী বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচের আগেই আপনাদের বলেছিলাম যে এই পিচে তাইজুল ইসলাম সবচেয়ে কঠিন হবে এবং হোয়াইটওয়াশ লোড হচ্ছে..এতে কোনো মিথ্যা নেই।’
ঢাকা টেস্টে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞ ব্যাটিং, লিটন দাসের দৃঢ়তা আর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে স্বাগতিকরা। আর সিলেটে সেই চাপ আরও বড় আকার নেয়। চতুর্থ ইনিংসে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় রিজওয়ান ও সাজিদের জুটিতে ম্যাচে ফেরার আশা দেখেছিল পাকিস্তান। তবে নতুন বলে আঘাত হেনে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন তাইজুল ইসলাম।
সেই মুহূর্তের কথা তুলে ধরে বাসিত বলেন, ‘৫৪ রানের জুটি হলো রিজওয়ান এবং সাজিদের। তাতে কিছুটা আশা জেগেছিল। মনে হচ্ছিল, হয়ত পাকিস্তান এমন কিছু করে দেখাবে যা আগে কখনো করেনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ৭৮ রানে ম্যাচও জিতল এবং পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশও করল।’
এই সিরিজে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের বদলে যাওয়া মানসিকতা। পাকিস্তানে গিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের পর অনেকেই সেটিকে কাকতালীয় বলেছিলেন। তবে এবার ঘরের মাঠে একই প্রতিপক্ষকে আরও দাপটের সঙ্গে হারিয়ে সেই সংশয় দূর করেছে বাংলাদেশ।
বাসিত মনে করেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তানে গিয়ে যে হোয়াইটওয়াশ করে এসেছিল, সেটাকে আজ সত্যি প্রমাণ করল যে ওটা কোনো কাকতালীয় ব্যাপার ছিল না। তারা পাকিস্তানেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং নিজেদের দেশেও ভালো ক্রিকেট খেলেছে।’
বাংলাদেশ দলের এই পরিবর্তনের পেছনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সাবেক এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। তার মতে, পুরো সিরিজে শান্ত যেভাবে বোলারদের ব্যবহার করেছেন, সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে, ‘হোয়াইটওয়াশ তো প্রত্যাশিতই ছিল। তবে এখানে যদি আমি শান্তর ভালো অধিনায়কত্বের প্রশংসা না করি, তবে ভুল করা হবে। শান্ত যেভাবে অধিনায়কত্ব করেছে—কোন বোলারকে কখন আনতে হবে, সেটা টেস্ট ম্যাচে একটা মস্ত বড় ফ্যাক্টর।’
শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতেও বদল দেখছেন তিনি। তার মতে, পাকিস্তান সফরের সাফল্যের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভেতরে নতুন এক বিশ্বাস তৈরি হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সবাইকে অভিনন্দন, আপনারা ভালো ক্রিকেট খেলেছেন। আপনাদের পাকিস্তানে যে জয়টা ছিল, সেটা এর চেয়ে বেশি ভালো ছিল। কারণ সেটার পর আপনাদের দল সম্পূর্ণ অন্য এক চেহারায় চলে এসেছে এবং বিশ্বাস জন্মেছে।’
এরপরই আসে সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যটি। পাকিস্তানের জন্য বাংলাদেশ এখন বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন বাসিত আলী। তার মতে, ‘এখন মনে হচ্ছে বাংলাদেশ পাকিস্তানের জন্য অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাই বাস্তব এবং এতে খারাপ কিছু নেই, এটিকে পজিটিভভাবে নেওয়া উচিত এবং আমি পজিটিভভাবেই নিয়েছি ভাই যে বাংলাদেশ এটার যোগ্য ছিল।’
সিরিজ হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেটের ভেতরের সংকট নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। বাসিতের মতে, ঘন ঘন অধিনায়ক বদল করেও সমস্যার সমাধান হবে না, যদি তৃণমূল ও ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নয়ন না করা হয়, ‘সামনে সেটাই হবে যা বরাবর হয়ে আসছে..একজন অধিনায়ক বদল হবে, আরেকজন আসবে; সে বদল হবে, তৃতীয়জন আসবে। কিন্তু তৃণমূল স্তরে কেউ কোনো কাজ করবে না। ঘরোয়া ক্রিকেটকে কেউ উন্নত করবে না আর এভাবেই আমরা হারতে থাকব এবং সাধারণ মানুষের মন ভাঙতে থাকবে।’
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের আধিপত্য মেনে নিয়েই প্রশংসা ঝরেছে বাসিত আলীর কণ্ঠে, ‘সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে এবং তাদের জেতাটাই উচিত ছিল। তারা জিতেছে এবং পাকিস্তানের জন্য চোখ খুলে দেওয়ার মতো একটা সফর ছিল এটি, যা এখন শেষ হয়ে গেছে। এখানে পাকিস্তানের যে নাস্তানাবুদ অবস্থা হয়েছে, তার ক্ষত এত সহজে শুকানোর নয়।’