পাট খাতের রপ্তানি আয় ৭ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব: পাটমন্ত্রী

সানশাইন ডেস্ক: সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও পাটপণ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশের পাট খাতের রপ্তানি আয় এখনকার ১ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বা ৭ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার ঢাকার ফার্মগেইটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) আয়োজিত ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলার’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। পাটের সোনালি অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছিল পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। সে সময় মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে পাট খাতের অবদানই ছিল ৩১৩ মিলিয়ন ডলার।
“বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও পাট খাতের অবদান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বাস্তবতায় পাট খাতের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে সরকার সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।”
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পাট খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে প্রথম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করতে হবে। দেশে বছরে প্রায় ৬ হাজার টন পাটবীজ প্রয়োজন হয়। ওই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন নকশা উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। সেজন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ডিজাইন তৈরিতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও বলেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, জেডিপিসি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দ্রুত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাট খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে ‘অত্যন্ত আগ্রহী’ জানিয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, “তার নেতৃত্বে সরকার সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করবে।”
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, “সবাই মিলে পাট শিল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই পাট তার অতীত গৌরব ফিরে পাবে, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাটচাষীসহ এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।
এর মাধ্যমে গ্রাম ও শহরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী পর্ব শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা উদ্যোক্তাদের সঙ্গে পাটপণ্যের সম্ভাবনা, বাজার সম্প্রসারণ ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। আয়োজকরা জানান, আগামী ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।


প্রকাশিত: মে ২০, ২০২৬ | সময়: ৫:২৬ পূর্বাহ্ণ | সুমন শেখ