সর্বশেষ সংবাদ :

অরক্ষিত নির্মাণকাজের জন্য পাশের ভবনের ক্ষতি, আতঙ্কে পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর কাজিহাটা এলাকায় একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজকে কেন্দ্র করে পাশের বাড়ি ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী পরিবারের দাবি, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহেলা, নিম্নমানের সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং নিয়ম না মেনে গভীর খননের কারণে তাদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়াল ফেটে গেছে, ভিত্তির নিচ থেকে বালু ও পানি বের হচ্ছে এবং পুরো বাড়ি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগকারী তামান্না সুলতানা জানান, তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ইনস্টিটিউটের সাবেক উপাধ্যক্ষ ডা. হাবিবুল্লাহ সরকারের মেয়ে। তাঁদের বাড়ি রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার কাজিহাটা এলাকায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপরীত গলিতে অবস্থিত। বাড়ির হোল্ডিং নম্বর ২০৭।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের বাড়ির পাশেই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “ড্রিম স্মিথ” একটি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেন। শুরুতে কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই মাটি খননের কাজ শুরু করা হয়। পরে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-তে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে আদালতে মামলা ও আইনজীবীর নোটিশ পাঠানোর পর নির্মাণকারী পক্ষ ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর খননের জন্য ২০ ফুট স্টিল শিট দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে ১৩ ও ২০ ফুটের মিশ্র শিট ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর আপত্তি সত্ত্বেও তা পরিবর্তন করা হয়নি।
তামান্না সুলতানা বলেন, পুরো জমি তিন ধাপে খননের কথা থাকলেও নির্মাণকারী পক্ষ একসঙ্গে দুই ধাপের মাটি কেটে ফেলে। কাজিহাটা এলাকার মাটি নরম হওয়ায় শুকনো মৌসুমে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি। বরং কয়েক মাস কাজ বন্ধ রেখে বর্ষা শুরু হওয়ার পর পুনরায় খননকাজ শুরু করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, নিম্নমানের স্টিল শিট ব্যবহারের কারণে মাটির চাপে সেগুলো সরে যায় এবং এতে ওয়াসার পাইপ ফেটে যায়। একই সঙ্গে তাঁদের বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এমনকি ভিত্তির নিচ থেকে বালু ও পানি বের হতে থাকে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ক্ষতি রোধে ৪০ থেকে ৫০ ড্রাম ট্রাক বালি ফেলে ভরাট করার আশ্বাস দেওয়া হলেও মাত্র ১১ ট্রাক বালি ফেলা হয়। পরে সেই বালুও সরিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভিত্তি তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, বর্তমানে অল্প কিছু বাঁশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এ ঘটনায় আরডিএ, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তামান্না সুলতানা অভিযোগ করে বলেন, “মুখে এক কথা বললেও বাস্তবে তারা কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের বাড়ি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।” তিনি আরও দাবি করেন, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও নির্মাণকারী পক্ষ তা আমলে নেয়নি।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন করেন, এই বিপদ থেকে রক্ষা পেতে। তিনি কার্যকরি পদক্ষেপ ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বর্তমানে তামান্না সুলতানার বাবা-মা হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করায় তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনিই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান “ড্রিম স্মিথ”এর দেখভালের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমান মিজানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।


প্রকাশিত: May 20, 2026 | সময়: 5:21 am | সুমন শেখ

আরও খবর