, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: সম্প্রতি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেনন্টেটিভ) দালাল আখ্যায়িত করে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতে ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছে।
সোমবার (১১মে) বেলা ১১ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের সামনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখার আয়োজনে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর ফারিয়ার সভাপতি সামস উদ্দিন নয়ন (সামস)।
প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আরএসএম এক্সিকিউটিভ ফোরামের সভাপতি মোশাররফ হোসেন পলাশ, সহসভাপতি ইমতিয়াজ রবিন, সাধারণ সম্পাদক তাকরিউজ্জামান লিটন। এরিয়া ম্যানেজার ফোরামের সভাপতি মো: মিজানুর রহমান মিজান, মহানগর ফারিয়া প্রধান উপদেষ্টা ও এরিয়া ম্যানেজার ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম রতন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা ফারিয়ার সভাপতি খায়রুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি আবু মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, মহানগর ফারিয়ার সাধারণ সম্পাদক মাসুদ নয়ন, সহসভাপতি মো: সারোয়ার অপু, সদস্য সুলতানা পারভীন ও রাজশাহী ফারিয়া প্রতিষ্ঠাকালীন উপদেষ্টা সাংবাদিক হুমায়ুন কবীরসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন ফারিয়ার উপদেষ্টা আরিফুল ইসলাম মাসুম।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা রিপ্রেজেনন্টেটিভদের দালাল আখ্যা দিয়ে আটক করার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এছাড়াও বক্তরা রাজশাহীতে সম্মান নিয়ে কাজ করার পরিবেশ, রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে আনসার সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়া, বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোতে কাজের প্রতিবন্ধকতা বন্ধ করে সম্মান আত্নমর্যাদা নিয়ে কাজের পরিবেশের দাবি করেন। অন্যথায় তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন ফারিয়া হাসপাতাল ভিজিট সকল চেম্বারে ডাক্তার ভিজিট এবং ঔষধের দোকানে ঔষধ বিক্রি বন্ধ করে দিবে।
বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া) ২০১৫ সালে সারাদেশ ব্যাপি ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেনন্টেটিভদের (এমআর) বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষে গঠন করা হয়।
পুঠিয়া: বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) বানেশ্বর শাখার উদ্যোগে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মোঃ আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাওন মিয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ নাজমুল হাসান, কোষাধ্যক্ষ সানিয়াত সোহান-সহ অন্য নেতারা। মানববন্ধনের ব্যানারে লেখা ছিল, “আমরা দালাল নই, সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত এবং মেডিকেল বিজ্ঞান বিষয়ে প্রশিক্ষিত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি।” বক্তাদের অভিযোগ, দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নানা সময়ে অপমান, অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হয় তাঁদের।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রেই মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত পরিচয়কে খাটো করে দেখা হয়। অথচ চিকিৎসক, হাসপাতাল ও রোগীর কাছে আধুনিক ওষুধ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তারাই। সভায় আরও বলা হয়, দেশের ওষুধ শিল্প জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় খাত হলেও, এই খাতের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের জন্য এখনো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ ও নানা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে প্রতিনিধিদের। এর আগে একটি বিক্ষোভ র্যালি বানেশ্বর বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে ট্রাফিক মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা। কর্মসূচি শেষে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের নেতারা। সেখানে পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বড়াইগ্রাম: বনপাড়া বাইপাস এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনকালে অ্যাসোসিয়েশনের বনপাড়া শাখার সভাপতি মোঃ আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন, সদস্য মোঃ মামুন ও আসাদুজ্জামান, ম্যানেজার ফোরামের সভাপতি মকদুম হোসেন, সদস্য আনোয়ার শাহাদৎ হোসেন, সদস্য মামুন হোসেন ও সোহেল রানা বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও তারা নানা ধরনের অবমূল্যায়ন, অনিরাপদ কর্মপরিবেশ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রদান, চাকরির স্থায়িত্ব, ন্যায্য কর্মঘণ্টা, চিকিৎসা সুবিধা ও পেশাগত মর্যাদা ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তারা। এ সময় দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।
আক্কেলপুর: “মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দালাল নয়, তারা দেশের শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সারাদেশে মেডিকেল সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া হবে”- বলে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টিটিভ এ্যসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সাধারণ সম্পাদক তুহিন হাসান। আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ফার্মাসিউটিক্যালস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) আক্কেলপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদী মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনে উপজেলার বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রায় অর্ধশত মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ অংশ নেন। পরে তারা উপজেলা পরিষদের সামনে সমাবেশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে তুহিন হাসান বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেশের ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসকদের নতুন ওষুধের কার্যকারিতা, ব্যবহারবিধি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করেন। অথচ সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিপ্রেজেন্টেটিভদের ‘দালাল’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অপমানজনক ও নিন্দনীয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সম্মান নিয়ে কাজ করতে চাই। আমাদের বিরুদ্ধে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় সারাদেশে একযোগে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে এবং মেডিকেল সামগ্রী সাপ্লাই বন্ধ করে দেওয়া হবে।’ মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন আক্কেলপুর ফারিয়ার সভাপতি এম ডব্লিউ সিপার, সদস্য মাহমুদুল হাসান মানু ও হাসান আলী। সময় বক্তারা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেশের শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর অংশ। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বিভিন্ন সময় অপমান, অবহেলা ও মানসিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। স্মারকলিপিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত, কর্মক্ষেত্রে সম্মানজনক আচরণ এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
আক্কেলপুর ফারিয়ার সভাপতি এম ডব্লিউ সিপার বলেন, ‘সারাদেশে একযোগে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আক্কেলপুরেও এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’ §ারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা জান্নাত।
নিয়ামতপুর: উপজেলা পরিষদ গেট এর সামনে নিয়ামতপুর মডেল ফারিয়া আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ওয়ান ফার্মা’র সিনিয়র এমআইও সুমন ইকবাল। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা দেশের স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নানা সময়ে হয়রানি ও অনিরাপদ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই তাদের পেশাগত সম্মান রক্ষা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। বক্তারা আরও বলেন, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা কোনো দালাল নন, তারা দেশের উচ্চশিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি। তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। মানববন্ধনে নিয়ামতপুর উপজেলার বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা অংশগ্রহণ করেন।