, , ।
আদমদীঘি প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে দায়েরকৃত মামলার এক আসামীকে বেধড়ক মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সম্রাট নামের ওই আসামীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হলেও ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। পরে আহত অবস্থায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত এক মারামারির ঘটনায় ছোট ভাই সাদ্দাম সহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন বড় ভাই মাহবুব হোসেন। দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে গত সোমবার দুপুরে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম এলাকার পাশ্ববর্তী নওগাঁ সীমান্তের আদম দুর্গাপুর গ্রামে ৪ নম্বর আসামী সম্রাটকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সাদ্দামের প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধভাবে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পুলিশ সম্রাটের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলে তার মা বাইরে বেরিয়ে আসেন। এসময় পুলিশের সঙ্গে প্রতিপক্ষদের উপস্থিতি দেখে তিনি অন্য একটি দরজা দিয়ে দৌড়ে পাশের একটি বসতবাড়িতে আশ্রয় নেন।
তবে প্রতিপক্ষরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং বেধরক মারধর করতে করতে পুলিশের কাছে নিয়ে আসে।
অতিরিক্ত শারীরিক নির্যাতনের ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই আহত হন। পরে পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ধরনের মারধরের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ঘটনার পর থেকেই ওই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এদিকে ছাতিয়ানগ্রাম এলাকায় গত এক মাসে চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বসতবাড়ি থেকে জিনিসপত্র চুরি, দিনের বেলায় মোটরসাইকেল চুরি এবং দোকানের ঢেউটিন কেটে মালামাল চুরি সহ অন্তত কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেও এসব ঘটনায় এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য আইনগত ব্যবস্থা বা চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়েনি।
আইনজীবী আতাউর হোসেন জানান, অপরাধীকে ধরার বা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার নামে কাউকে মারধর করা যা সাধারণত ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া’ হিসেবে পরিচিত কখনোই আত্মরক্ষার মধ্যে পড়ে না। কোনো ব্যক্তিকে মারধর করা, শারীরিক নির্যাতন করা বা জনসম্মুখে হেনস্থা করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই।
তিনি আরও বলেন, কেউ যদি অন্য কাউকে মারধর করে, তবে তা দণ্ডবিধি (চবহধষ ঈড়ফব) অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি পুলিশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য তাদের দায়িত্ব হলো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা। মারধর করার কোনো আইনি অধিকার তাদেরও দেওয়া হয়নি।
আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান মিয়া জানান, সম্রাট এজাহারনামীয় আসামী। প্রতিপক্ষের দ্বারা মারধরের ঘটনা সত্য নয়। মারধর করলে কি আদালত নিবে? পুলিশ গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।