, , ।
নুরুজ্জামান ,বাঘা :
দেশ বর্তমানে এক জটিল ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। জ্বালানি ঘাটতি, বিদ্যুৎ এর ঘন-ঘন লোডশেডিং , পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পানি সংকট-সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এই রিপোর্টে উল্লিখিত সমস্যা গুলোর সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হলো।
গ্যাস সংকট ,অবকাঠামো আছে, সরবরাহ নেই :
দেশে গ্যাস সংযোগের অবকাঠামো থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় গ্যাসের তীব্র ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। “পাইপ আছে, গ্যাস নেই-এ যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এতে গৃহস্থালির রান্না থেকে শুরু করে শিল্প কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অপর দিকে সিলিন্ডার গ্যাস থাকলেও ইচ্ছে মতো দাম ধরছেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে বিপাকে পড়ছেন সাধারন মানুষ।
জ্বালানি তেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি :
পেট্রোল পাম্প থাকলেও জ্বালানির সংকট ও উচ্চমূল্য পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু যাতায়াত নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে এবং রাত্রী যাপন করেও অনেক সময় গাড়ির তেল পাচ্ছেন না। অপর দিকে কাঙ্খিত পরিমান ডিজেল না পাওয়ায় জেনারেটর , মেশিন বন্ধ থাকছে এবং এর প্রভাব পড়ছে কৃষিখাতে।অভিযোগ রয়েছে, কতিপয় সিন্ডিকেটের কারনে এই সমস্যা তীব্র হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিং :
এদিকে বিদ্যুৎ এর সাথে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এটি উৎপাদনে জ্বালানি ঘাটতির কারণে নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা এই সমাধানের জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধি :
পরিবন মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়েছে এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধির ফলে বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।তাদের দাবি সরকার যদি জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সক্ষম হন তাহলে তারা পরিবহনের ভাড়া কমিয়ে দিবেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি :
ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাদ্যপণ্য-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। হাট-বাজার গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সকল পন্য নিজ-নিজ এলাকায় উৎপাদন হয়না। একেকটা এলাকায় একেক ফসল উৎপাদন বেশি হয়। এ দিক থেকে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ভাড়া অগের তুলনায় অনেক বেশি নিচ্ছে এ কারনে চাইলেও দ্রব্য মুলের বাজার নিয়ন্ত্রন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
জ্বালানি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি :
গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় শিল্প উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে নিত্ত পণ্যের মূল্যে। ফলে সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার গ্যাস সিলিন্ডরের জন্য নির্ধারিত মূল্য নেয়ার কথা বললেও, বাস্তবে সেটি কার্যকর হচ্ছেনা। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাও নিরব।
পানির তীব্র সংকট :
পানি সংকট এখন একটি গভীর ও বিস্তৃত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। শহরাঞ্চলে পানির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ সেই অনুযায়ী বাড়ছে না, ফলে অনেক এলাকায় নির্দিষ্ট সময় ছাড়া পানি পাওয়া যায় না। অপর দিকে গ্রামাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েল ও নলকূপে পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে, বিশেষ করে চলতি খরা মৌসুমে। অন্যদিকে, নদী ও জলাশয়ে শিল্প বর্জ্য ও দূষণের কারণে নিরাপদ পানির উৎস কমে যাচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল পানি ব্যবস্থাপনাও এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানান : দেশের বর্তমান সংকট শুধুমাত্র একটি খাতের সমস্যা নয়, বরং এটি একটি সমন্বিত জাতীয় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত, কার্যকর এবং টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে এই সংকট ভবিষ্যতে আরও গভীরে রুপ নেবে।
সুশীল সমাজের বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা :
জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সাথে বিকল্প জ্বালানির উৎস তৈরী করা-সহ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। সেই সাথে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে সরকারী কর্মকর্তাদের।সব মিলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।
নুরুজ্জামান /শামি