সর্বশেষ সংবাদ :

মোহনপুরে ফিলিং স্টেশনে তেলের বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি

রাসেল সরকার, মোহনপুর: রাজশাহীর মোহনপুরে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবারহ করতে পারছে না ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। এজন্য তারা তেল বরাদ্দ বৃদ্ধির আবেদন অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে, তেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিং স্টেশনে বরাদ্দ বৃদ্ধির ব্যাপারে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় চাহিদামত তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হচ্ছে। এমনকি চাহিদা অনুযায়ী তেলের বরাদ্দ বৃদ্ধি করার সুপারিশে সাড়া মিলছেনা জানিয়ে দ্রুত বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানান এ উপজেলার কেশরহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান।
তেল সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেশরহাট ফিলিং স্টেশন মালিক গত ২৪ মার্চ স্থানীয় প্রশাসনের সুপারিশকৃত একটি লিখিত আবেদন মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিট্রেডের সহকারি মহাব্যবস্থাপক বগুড়া বরাবর প্রেরণ করেন। যা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি বলে জানা গেছে। ওই আবেদনের আলোকে জানা গেছে, মেসার্স কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ডিজেল বরাদ্দ ছিল ৮৫৫০০ লিটার, পেট্রোল ২৭০০ লিটার, অকটেন ৯০০০ লিটার। প্রাপ্ত তেলের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহনপুর উপজেলায় যুগ যুগ ধরে রাজশাহীর সর্বাধিক মিষ্টি পানের চাষ হয়ে আসছে। প্রতি বছর শুধু মাত্র মোহনপুর উপজেলার হাটবাজারেই প্রায় সাড়ে ৬ শো কোটি টাকার পান ক্রয়-বিক্রয় হয়। আর এসকল পান বরজে পানি সেচ কাজে বিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যপক পরিমাণে ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহৃত হয়।
এছাড়াও রয়েছে অনেক বোরো ধান, পটল, লাউসহ নানা সবজি খেতে পেট্রোল ও ডিজেল চালিত সেচযন্ত্র। সম্প্রতি চাহিদানুযায়ি তেল না পেয়ে ব্যবসায়িরা এখানকার উৎপাদিত পান, মাছ, আলু, পটলসহ সব ধরণের সবজি দেশের অভ্যন্তরে সঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছেনা। ফলে কৃষকরা ন্যায্যমুল্য বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকেই।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ি, গত ২২ এপ্রিল বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৪০ ডিগ্রি) রেকর্ড করা হয়েছিল রাজশাহীতে। এদিন মেমার্স কেশরহাট ফিলিং স্টেশন তেল বিতরণকালে তেল নিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাাঁড়য়ে থাকা একজন শ্রমিক হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান।
এসময় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হিটস্ট্রোকে মৃত ঘোষনা করেন। এর আগে গত ২৯ মার্চ রাতে তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফেরার সময় পাম্পের সামনেই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাইকার আবদূল মালেক স্বর্ণকার। এরপরেও যেন তেল গ্রহিতাদের লাইন দিন দিন আরো দীর্ঘ হচ্ছে।
গত বুধবার সেচ কাজের জন্য এ পাম্পে আসা নাজিম উদ্দিন নামে একজন পেট্রোল গ্রহিতা জানান, আমার পান বরজ ও সবজি খেতে সেচ দেয়ার জন্য তেল নিতে এসেছি। কঠিন রোদ, দীর্ঘ লাইন সব শেষ তেল পাবো নাকি ফুরিয়েই যায় । তেলের সরবরাহ বাড়ালে নিয়োমিত এবং পেলে অনেকাংশে আমাদের ভোগান্তি বন্ধ হতো।
রবিউল ইসলাম নামের একজন ট্রাক মালিক বলেন মোহনপুরের তেল পাম্পে যে পরিমাণ তেল আসে কিছুক্ষণ দেয়ার পরে ফুরিয়ে যায়। পাম্পের লাইনে সিরিয়াল দিয়ে যখন তেল পাচ্ছিনা ভাড়াও ধরতে পারছিনা। তখন পরিবার চালানোর দুঃখটা বুক ফাঁটা কান্না আসে। তেল সরবরাহ কিছুটা বাড়ালে আমরা গাড়ি চালিয়ে জীবন যাপন করতে পারবো। এজন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর তামনা করছি।
জানতে চাইলে কেশরহাট ফিলিং স্টেশনের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জনসাধারণের দূর্ভোগ রোধে পাম্পে অতিরিক্ত লোকবল বাড়িয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি আমাদের কেশরহাটের দুটি পাম্পে নিয়োমিত তেল সরবরাহ করে আসছি। তবে কেশরহাট ফিলিং স্টেশনে তেলের চাহিদা অনেক বেশি।
এজন্য মোহনপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার এবং রাজশাহী-৩ আসনের মাননীয় এমপি মহোদয়ের সুপারিশকৃত একটি আবেদন আমি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের সহকারি মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) বরাবর পাঠিয়েছি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সরবরাহ বাড়ায়নি। সরবরাহ বাড়ানো একান্তই জরুরী বলেও দাবী করেন তিনি।
মোহনপুর উপজেলা কুষি অফিসার কামারুল ইসলাম জানান, সেচ কাজে প্রেট্রাল ও ডিজেল চালিত যন্ত্রের সংখ্যা নিরুপণের কাজ চেলছ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ সংখ্যা জানানো যাবে। তবে লাইন দীর্ঘ হলেও কৃষকরা তেল পাচ্ছেন। দ্রুত অধিক চাহিদার হাহাকার কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
মোহনপুর উপজেলা নির্বাহি অফিসার ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে না পারায় তেলের বরাদ্দ বৃদ্ধির একাধিক সুপারিশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত বরাদ্দ বৃদ্ধির ব্যপারে পদক্ষেপ গ্রহন করবেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো।


প্রকাশিত: April 24, 2026 | সময়: 4:08 am | সুমন শেখ

আরও খবর