, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারায় দুই আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত্ব হয়ে পড়েছে একাধিক বেকার যুবকের পরিবার। তারা অবিলম্বে আদম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে টাকা ফেরৎ ও শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের সেউজবাড়ী গ্রামে। ওই ঘটনায় দুই আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে রাজশাহীর আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নের সেউজবাড়ী গ্রামের আদম ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান (৫২) ও তার ছেলে জাকারিয়া ইসলাম সুমন (২২) একই গ্রামের কামাল মন্ডলের ছেলে জাহিদুল ইসলাকে দেশের বাহিরে কম্বোডিয়ায় বেশী বেতনে চাকরীর প্রলোভন দিয়ে তার পিতার নিকট থেকে ৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রহন করে। একই কৌশলে একই ইউনিয়নের চক-সেউজবাড়ী গ্রামের খায়রুল ইসলামের ছেলে জাহিদ হাসান শেখ ও শাহিনুর ইসলামের পরিবারের কাছ থেকে একই ভাবে টাকা গ্রহন করেন।
তারা চতুর আদম ব্যবসায়ী ফজলুর রহমানের কৌশল বুঝতে না পেরে বিদেশে পাড়ি জমানোর টাকাগুলো পরিশোধ করেন। চতুর আদম ব্যবসায়ী ফজুলর রহমান টাকা গ্রহনের পর তার ছেলে জাকারিয়া ইসলাম সুমনের সঙ্গে জাহিদুল ইসলাম, জাহিদ হাসান শেখ ও শাহিনুর ইসলামকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে চতুর ফজলুর রহমানের ছেলে আদম ব্যবসায়ী সুমন তাদেরকে কম্বোডিয়ার একটি হোটেলে রাত যাপনের জন্য রাখে।
সুযোগ বুঝে আদম ব্যবসায়ী সুমন এদেরকে চাইনিজ একটি কোম্পানীর কাছে বিক্রি করে দিয়ে নিজ দেশে চলে আসে। চাইনিজ কোম্পানীর ব্যক্তিবর্গরা তাদের দিয়ে কাজ করে নেন, কিন্তু ঠিকমত খাবার দেন না। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানীর কর্মকর্তাদের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। কোম্পানীর লোকজন তাদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালান। এক পর্যায়ে কোম্পানী থেকে তারা জানতে পারেন, তাদেরকে বিক্রি করা হয়েছে। ঘটনাটি তারা পরিবারের সদস্যদের জানান। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানার পর আদম ব্যবসায়ী ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনবেন বলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আবারো অতিরিক্ত টাকা গ্রহন করেন।
টাকা গ্রহনের পরে আদম ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে না এনে বিভিন্ন টালবাহনা শুর করেন। এক পর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশীদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সন্তানদের দেশে ফিরিয়ে আনেন। বর্তমানে পরিবারগুলো সর্বস্বান্ত্ব হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মামলার বাদীরা জানান, চতুর ফজলুর রহমান তাদের জায়গা জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সংসারের সচ্ছলতা আনার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলাম। প্রতারক ফজলুর রহমান আমাদের সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে। এখন টাকার কথা বলতে তিনি আমাদেরকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর কৌশল খুঁজছেন বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত ফজলুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি রিসিভ করেন নি। অপরদিকে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তিতে জানাতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেকেন্ড টিম, থার্ড টিম বলে কিছু নেই’
স্পোর্টস ডেস্ক: নিউ জিল্যান্ডের যে দলটা বাংলাদেশ সফরে এসেছে দলটিকে নিশ্চিতভাবেই তাদের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারির দল বলা যায়। দলটির কোচ রব ওয়াল্টার তো বলেই দিয়েছিলেন তাদের ৫৪ ক্রিকেটার বিভিন্ন জায়গায় খেলে বেড়াচ্ছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, পাকিস্তান সুপার লিগে জাতীয় দলের প্রথম সারির সব খেলোয়ড়রা ব্যস্ত। তাইতো বাধ্য হয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটারদের নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে কিউইরা। অথচ সেই দলটাই বাংলাদেশকে প্রথম ওয়ানডেতে ২৬ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে।
জয়ের তীব্র ইচ্ছা, হাল না ছাড়া মানসিকতায় নিউ জিল্যান্ড মাঠে ছিল অনন্য, অসাধারণ। তাদের পেশাদারিত্ব, তাদের সামর্থ্যের প্রশংসা করছে সবাই। শক্তি ও সামর্থ্যে বাংলাদেশ পিছিয়ে নেই। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে পেরে ওঠেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অতিথি দলটার বিপক্ষে বোলিংয়ে বাংলাদেশের সেরা ছিলেন শরিফুল ইসলাম। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন। প্রতিপক্ষ হিসেবে নিউ জিল্যান্ডকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে রোববার শরিফুল মিরপুরে বলেছেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো সময় সেকেন্ড টিম, থার্ড টিম বলে কিছু নেই। তারা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করেই আন্তর্জাতিকে এসেছে।’’
প্রথম ম্যাচের হারের যন্ত্রণা ভুলে আজ বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে বিশ্বাস শরিফুলের, “এখনও আমাদের হাতে দুটি ম্যাচ আছে। আমাদের ওই সামর্থ্য আছে যে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারব। একটা ম্যাচে হয়তো আমরা ভুল করেছি। তারা অবশ্যই ভালো দল।। আমরাও ভালো দল।। আশা করি পরের ম্যাচে আমরা ঘুরে দাঁড়াব।”
মোস্তাফিজুরের আচমকা চোটে শরিফুল প্রথম ম্যাচে খেলার সুযোগ পান। ১৬ মাস পর ওয়ানডেতে তার প্রত্যাবর্তন হয়। সেদিনের ঘটনা তুলে এনে শরিফুল বলেছেন, “টস হওয়ার হয়তো দুই-এক সেকেন্ড আগে আমাকে বলা হলো যে আমি খেলব। রিশাদ তখন বলল, ‘হয়তো তোমার রিজিকে আছে।’ আমি ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি, তারপর রানআপ মেপেছি, ওয়ার্ম আপ বোলিং করেছি। কাজেই আলহামদুলিল্লাহৃ আল্লাহ রিজিকে রেখেছিল, তার জন্য আর কীৃ।”
লম্বা সময় পর মাঠে ফিরে পারফর্ম করায় খুশি শরিফুল। কিন্তু দল না জেতায় মন খারাপ তারও, “সবশেষ ওয়ানডে খেলছিলাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। তারপর একটা গ্যাপ ছিল। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দলের বাইরে ছিলাম। তবে আমি সবসময় বেসিক কাজগুলা করার চেষ্টা করি আর সুযোগ এলে ভালো করার চেষ্টা করি। নিজের সঙ্গে লড়াই করেছি। সুযোগটা যখন এসেছে, ভালো করার চেষ্টা করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটামুটি একটা বোলিং করেছি, তবে দিনশেষে আমরা ম্যাচটা হেরেছি।। সেক্ষেত্রে অবশ্যই খারাপ লাগার একটা বিষয় আছে।”