, , ।
স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসি এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে গুরুতর আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান। গত বছর মিয়ামিতে আয়োজিত একটি প্রীতি ম্যাচে মেসির না খেলা এবং চুক্তি অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
‘ভিআইডি মিউজিক গ্রুপ’ নামক মিয়ামি-ভিত্তিক একটি সংস্থা দক্ষিণ ফ্লোরিডার আদালতে ১০টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেছে। অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো গত বছরের ১০ অক্টোবর মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা বনাম ভেনেজুয়েলা ম্যাচ।
আয়োজকদের দাবি, এই ম্যাচে মেসির খেলার কথা থাকলেও তিনি খেলেননি। অথচ তার ঠিক পরের দিনই তিনি ইন্টার মিয়ামির হয়ে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানের জয়ে মাঠে নামেন এবং দুই গোল করেন। মেসির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এএফএ এবং একজন এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশ করে আয়োজক সংস্থাকে ‘মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হতে বাধ্য করেছেন।
চুক্তিতে উল্লেখ ছিল যে, ইনজুরি বা অসুস্থতা না থাকলে মেসিকে অন্তত ৩০ মিনিট খেলতে হবে। কিন্তু মেসি মাঠে না নেমে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেছেন। ভিআইডি’র দাবি, মেসির পরিবারের যে বক্সে বসে খেলা দেখার খরচও তারা বহন করেছে। সংস্থাটি জানায়, মেসির অনুপস্থিতির কারণে স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতার মাত্র ২৩ শতাংশ (১৫,০০০ দর্শক) উপস্থিত ছিল। চুক্তি অনুযায়ী মেসি না খেললে চুক্তিমূল্যের ২৫ শতাংশ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও এএফএ তা পরিশোধ করেনি।
আদালতের নথিপত্রে দেখা গেছে, ভিআইডি মিউজিক গ্রুপ দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের একচেটিয়া অধিকারের জন্য এএফএ-কে ৭ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছিল। এছাড়া শিকাগোতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে ১.৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসান করেছে সংস্থাটি।
মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে যে, এএফএ’র নির্দেশিত যে এজেন্টের মাধ্যমে তারা কাজ করেছে, সেই ব্যক্তির ফিফা ম্যাচ এজেন্ট লাইসেন্সের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত লিওনেল মেসির প্রতিনিধি কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এই মামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। তবে জুন ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে আরও দুটি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়েও বর্তমানে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় তারকা এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে এমন আইনি লড়াই ক্রীড়াঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।