সর্বশেষ সংবাদ :

নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পবায় অধ্যক্ষের অপসারণের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর নওহাটা ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদ্রাসায় কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে অধ্যক্ষ আলতাফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে। একই সাথে মাদ্রাসার কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ফৌজিয়া শাবনুরকে এবং ল্যাব সহকারী পদে মরিয়ম খাতুনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
‎অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে দুজনকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছে থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি লোকচক্ষুর আড়ালে এবং সম্পূর্ণ গোপনে সম্পন্ন করা হয়েছে। ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা জানান, এর আগে অনুষ্ঠিত একটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে তাদের ব্যাংক ড্রাফট ফেরত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে গোপনে এই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
‎এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন খোদ নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি মশিউর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, এই নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকি নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো নথিতে তিনি স্বাক্ষরও করেননি বলে জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আরও বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে অধ্যক্ষ আলতাফ উদ্দীনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার নিয়োগ কে কেন্দ্র করে একাধিক ব্যক্তির কাছে থেকে টাকা নেওয়া এবং অভ্যন্তরিন আয় ব্যায়ে অডিটে ১১ টি বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে।
অধ্যক্ষ ও ম্যানেজিং কমেটির সভাপতির অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির এই গোপন নিয়োগের প্রতিবাদে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ‘চাকরিপ্রার্থী ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে তিনটি প্রধান দাবি জানানো হয়, অবিলম্বে এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ভিযুক্ত অধ্যক্ষ আলতাফ উদ্দীনকে অপসারণ করতে হবে। বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে হবে। তবে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অনিয়ম ও ঘুষের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলতাফ উদ্দীন। তার দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি, বরং সম্পূর্ণ নিয়ম-নীতি মেনে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই ওই দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


প্রকাশিত: April 14, 2026 | সময়: 5:55 am | সুমন শেখ