, , ।
আলামিন খান,জাবি প্রতিনিধি:
মওলানা ভাসানী হলের পুকুরে কামালউদ্দিন হলের ওয়াশরুম, ডাইনিং, ক্যান্টিন ও বটতলার দোকানের পানি অন্যত্র স্থানান্তর এবং পুকুর সংস্কারের জন্য স্মারকলিপি প্রদান করেছে মওলানা ভাসানী হল ছাত্রসংসদ।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় উপ-উপাচার্য প্রশাসন বরাবর মওলানা ভাসানী হল ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে মওলানা ভাসানী হল ছাত্র সংসদের ভিপি আব্দুল হাই স্বপন বলেন, “গত ২৮ নভেম্বর-২০২৫ মওলানা ভাসানী হলের পুকুরে বটতলা,কামালউদ্দিন হলের ডাইনিং ক্যান্টিন ওয়াশরুম,কোয়ার্টারের পানি অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ভাসানী-কামালউদ্দিন হলের মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
মিটিংয়ে কামালউদ্দিন হল ও ভাসানী হল থেকে প্রকৌশল অফিসে ফাইল পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং ফাইল পাঠানো হয়,এক সপ্তাহের মধ্যে পানি স্থানান্তর ও পুকুর সংস্কারের জন্য মোট কত টাকা বাজের প্রয়োজন তার হিসেব দেওয়ার কথা।
কিন্তু গত ৬ মাসে মওলানা ভাসানী হল ছাত্র সংসদ থেকে আমরা ট্রেজারার স্যার,উপ উপাচার্য প্রশাসন (প্রকৌশল অফিস প্রধান) এর কাছে ২ বার স্মারকলিপি দেওয়া হয় এবং কয়েকবার করে মিটিং আয়োজন করে সমাধানের রুপরেখা দিতে বলা হয়,কিন্তু তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সমস্যা সমাধানে কোনো আগ্রহ দেখতে পাইনি আমরা।বাজেট নাই এই এক কথা বারবার শুনতে হয় আমাদের।
মওলানা ভাসানী হলের পুকুরের ছবিটি পোস্টে দেওয়া হলো৷ আপনারাই দেখেন একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পুকুর কিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অবহেলার ফলে নর্দমায় পরিণত হয়। ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা ভোগ করতেসে,পুকুরের পচা পানির গন্ধ শিক্ষার্থীরা বিরক্ত এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল পজিশনে হলের সামনে এমন অপরিষ্কার পুকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শহরের মধ্যে হয়েও গোসল করার উপযোগী পুকুর রয়েছে কিন্তু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলার জন্য মওলানা ভাসানী হলের পুকুরটি আজ নর্দমায় পরিণত হয়েছে যেটা প্রশাসনের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মনোভাবকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আমরা আজ মওলানা ভাসানী হল ছাত্র সংসদ থেকে ট্রেজারার স্যার, প্রকৌশল অফিসের প্রধান উপ উপাচার্য প্রশাসন স্যারের স্মারকলিপি দিয়ে আলটিমেটাম দেই আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল-২০২৬) এর মধ্যে প্রকৌশল অফিস,উপ উপাচার্য প্রশাসন, ট্রেজারার সহ মিটিং করে সমাধানের রুপরেখা না দিলে প্রকৌশল অফিস,বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার অফিস বন্ধ করে দিবো।
উপ উপাচার্য প্রশাসন, ট্রেজারার স্যার,প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ মিটিং পর সিদ্ধান্ত হয় আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল -২০২৬) এর মধ্যে পানির লাইনগুলো হলের পুকুর থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য ও পুকুর সংস্কারের জন্য কত টাকা বাজেট লাগবে তার ফাইল প্রকৌশল অফিস থেকে হলে পাঠানো হবে এবং পরবতীতে হল অফিস থেকে ফাইল ট্রেজারার স্যারের কাছে যাবে।
ট্রেজারার স্যার আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুততম সময়ে নতুন অর্থবছরের বাজেট আসলেই একটি স্থায়ী সমাধান করা হবে যেহেতু ড্রেনেজ লাইন মোট ৩০০ মিটার দীর্ঘ এবং পুকুর সংস্কারের জন্য বড় বরাদ্দ প্রয়োজন। আমরা আশা করব জুন জুলাইয়ের মধ্যে নতুন অর্থবছরের বাজেটে সবার আগে ভাসানী হলের পুকুর থেকে পানির লাইনগুলো অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য টেকসই ড্রেনেজ সিস্টেম এবং পুকুরটি খনন করে পাড় বাঁধাই করে সংস্কারের উদ্যোগ নিবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আমরা যেকোনো মূল্যে পুকুরটি গোসল উপযোগী করে তুলতে চাই,সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য মওলানা ভাসানী হল সংসদ থেকে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।”
মওলানা ভাসানী হল ছাত্র সংসদের জিএস হৃদয় পোদ্দার বলেন, “ভাসানী হলের পুকুরটি একসময় গোসল উপযোগী ছিলো,কিন্তু ৫-৬ বছরে প্রশাসনের অবহেলায় পুকুরটি গোসল অনুপযোগী হয়ে উঠেছে,পুকুরের পচা পানির গন্ধে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি ৩ দফায় আশা করি প্রশাসন পুকুরটি দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিবে।”
সানশাইন /শামি