সর্বশেষ সংবাদ :

স্বাস্থ্য কথা : বাবুর সঠিক বিকাশ হচ্ছে কিনা আজই চেকআপ করুন

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল লার্নিং ডিজ্যাবিলিটি এক ধরনের হিডেন লার্নিং ডিজ্যাবিলিটি যা গোপন এক ধরনের প্রতিবন্ধিতা হিসেবে থাকে এবং বড় হওয়ার সাথে সাথে তা প্রকাশ পায়। এই ধরনের সমস্যাকে আমরা মেডিকেলের ভাষায় ডিসলেক্সিয়া বলে থাকি। বাংলায় ডিসলেক্সিয়াকে বোঝাতে গেলে বলতে হয় শব্দ অন্ধত্ব অর্থাৎ ইহা এমন একটি লার্নিং ডিজ্যাবিলিটি যেখানে একজন বাচ্চার পড়ালেখা ও বানান করতে অসুবিধা হয়, অক্ষর চিনতে, শব্দ গঠন করতে ও পড়তে সমস্যা হয়। একটি বাচ্চা মূলত জীবনের শুরু থেকেই পড়ালেখা বা অক্ষর চেনা বা শব্দ গঠন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকে না, তাই আমাদের বাবা-মা এ বিষয়টি বাচ্চাদের বাড়ন্ত বয়সে আঁচ করতে পারেন না। জীবনের একেবারে শুরু থেকেই যদি কোন বাচ্চা সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বা যোগাযোগের প্রতি আগ্রহের ঘাটতির কারণে অন্যদের কাছ থেকে শেখার প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হয় তাহলে লার্নিং ডেভেলপমেন্ট এর জন্য তার ব্রেইন সক্রিয় হয় না এবং মানবজীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সে হারিয়ে ফেলে যা শৈশবেই তার শিখে নেওয়া উচিত ছিল। এই নিউরোলোজিক্যাল লার্নিং ডিফিকাল্টিস কিন্তু অটিজম এরও একটি লক্ষন।
এই ধরনের নিউরো ডেভেলপমেন্টাল জনিত সমস্যার কারণে বাচ্চাদের মাঝে যৌথ মনোযোগের অভাব, অন্যকে দেখে দেখে শেখার প্রতি অনাগ্রহ, অনুকরণ করে করে না শেখা, সামাজিক খেলাধুলায় অংশগ্রহণ না করা ইত্যাদি জটিলতার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো বাচ্চার ক্ষেত্রে দেখা যায় বাবা-মা কোন গুরুত্বপূর্ণ কিছুর দিকে তাকালে বাচ্চাটি সেই দিকে তাকানোর আগ্রহ দেখায় না ফলে গুরুত্ববহ কোনো কিছু সে উপলব্ধি করতে পারে না, এই ধরণের সমস্যাগুলো যৌথ মনোযোগের সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বা সামাজিক খেলায় অংশ না নিলে বাচ্চারা একসাথে একাধিক কাজ করার বা মাল্টিটাস্কিং করার উপর স্কিলড হতে পারেনা যার দরুন জীবনের এক পর্যায়ে এসে চারপাশের জগতকে গুছিয়ে নেয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে, যাকে এক্সিকিউটিভ ফাংশনিং বলা হয়। অন্যান্য শিশুদের মতো করে কেউ কী বলছে, কী করছে, কেমন অনুভব করছে, কণ্ঠস্বরের সুর বা অঙ্গভঙ্গি কী বোঝাচ্ছে এসব একসাথে ধরতে সমস্যা হয় তাদের। স্কুলে যাওয়ার পর এই সমস্যাগুলো আরও বেড়ে যায় যখন তাদের চেয়ারে বসে থাকতে হয় এবং শিক্ষকের দিকে মনোযোগ রেখে অন্য শিশুদের সঙ্গে মনোযোগ ভাগাভাগি করতে হয়।
বাবু যখন স্কুল যাওয়ার উপযুক্ত হয় বা সেই বয়সে উপনীত হয় তখন অভিভাবকগণ এসব সমস্যা উপলব্ধি করতে পারেন কিন্তু সময় থাকতে সচেতন না হওয়ার দরুন এবং বিশেষজ্ঞদের নিকটে শিশুর সঠিক বিকাশ হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে পরামর্শ না করার কারণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই যায়। আপনার বাবুর মাঝে এ ধরনের কোন সমস্যা বা জটিলতা আছে কিনা তা আগেই যাচাই করে নিন। শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে অনেক অভিভাবকগণ এই বিষয়গুলো জানেন না, অনেক বাবা মা এগুলো জেনেশুনে লুকিয়ে রাখেন বা সকলের থেকে আড়াল করে রাখেন, আবার অনেক অভিভাবকগণ এগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে ইগনোর করে চলেন। দিনশেষে দেখা যায় সময় চলে গেলে বাচ্চা গুলোর আর প্রকৃত ডেভলপমেন্ট করা সম্ভব হয় না।
তাই সময় থাকতেই সচেতন হউন। বাবু সুস্থ হউক বা অসুস্থ আজই একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন ও চেকআপ করে নিশ্চিত হউন। নিয়মিত সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার বাবুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য প্রার্থনা করুন।

ডা. গাউসুল আযম
চিকিৎসক, লেখক ও গবেষক
চেয়ারম্যান: রিহ্যাব সাইন্স থেরাপি সেন্টার, নওদাপাড়া, রাজশাহী


প্রকাশিত: April 11, 2026 | সময়: 3:59 am | সুমন শেখ