, , ।
বদলগাছী প্রতিনিধি: নওগাঁর বদলগাছীতে স্ত্রী রাখীর বিদেশ গমনে বাঁধায় স্বামী আশরাফুল হত্যার কারন বলে জানা যায়। আশরাফুলের মা বাদী হয়ে কোটে মামলা দায়ের গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ থাকলেও আসামি ধরা ছোঁয়ার বাহিরে।
জানা গেছে বদলগাছী উপজেলার ভান্ডার পুর বালুপাড়া চড়ুই হাসা গ্রামের মোঃ নুরুজ্জামান বাঁকা (৫৭) এর কণ্যা রাখীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আক্কেলপুর পৌরসভার শান্তা সরদার পাড়া গ্রামের মোঃ সেকেন্দার আলীর ছেলে আশরাফুলের সঙ্গে দীর্ঘ ১৪/১৫ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী ঘর সংসারের এক পর্যায়ে পরপর দুটি ছেলে এবং একটি কণ্যা সন্তান লাভ করে তারা।
আশরাফুল ঢাকায় একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।বড় দুই ছেলে সন্তা মাদ্রাসায় কোরআন শিক্ষা করে,ছোট মেয়ে আছফিয়া (৭) বছর মা রাখির কাছে থাকে, রাধী বেশি সময় বদলগাছী উপজেলার ভান্ডার পুর বালুপাড়া চড়ুই হাসা গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন। সেখান থেকে জর্ডান দেশে যাওয়ার জন্য কাগজ পএ তৈরি করেছেন বলে স্বামী আশরাফুল ইসলাম জানতে পেরে ঢাকা থেকে সন্তা গ্রামে গত ১৮এ জানুয়ারি নিজ বাড়ীতে আসেন, ব্যাগ রেখেই মাকে বলে আমি আছফিযার মাকে নিতে যাচ্ছি শ্বশুরবাড়ি বলে বাড়িতে থেকে বাহির হয়ে চলে যায়,আশরাফুল আর বাড়ি ফিরেনি
গত ১৯ জানুয়ারি তারিখে সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যের মোবাইলে ছেলে আশরাফুলের লাশ চিনিতে পেরে ছুটে যান তার শশুর বাড়ি। সেখানে কাউকে না পেয়ে বদলগাছী থানায় গিয়ে সনাক্ত করেন ছেলের লাশ। ভাড়ি হয়ে উঠে আকাশ ও বাতাস।
বদলগাছী থানা পুলিশ আশরাফুলের লাশটি বদলগাছী উপজেলার মথুরা পুর ইউনিয়নের ছোট যমুনা নদীর জাবারীপুর ঘাটের পশ্চিম পাশের বাঁধের নিচে বট গাছের নিচ থেকে পরিত্যাক্ত স্হান থেকে উদ্ধার করে থানায় এনে ময়না তদন্ত শেষে আশরাফুলের পরিবারকে লাশটি বুঝিয়ে দেন।
বাড়ি নিয়ে গিয়ে ধোয়ানোর সময় আশরাফুলের শরীরের বিভিন্ন যায়গায় আঘাতের চিহ্ন সহ নাক মুখ দিয়ে রক্ত বাহির দেখে হত্যা করা হয়েছে ধারনা করে বদলগাছী থানায় হত্যা মামলা করার জন্য বারং বার ঘুরে মামলা করতে না পারায়, আশরাফুলের মা আছমা আক্তার ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে, আশরাফুলের শশুর নুরুজ্জামান বাঁকা কে ১ নং আসামি, স্ত্রী রাখি কে ২ নাম্বার আসামি, শাশুড়ি আনজুয়ারা (৫৩)কে ৩ নাম্বার আসামি করে, নওগাঁ কোটে গত ৮ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ৩৬/২৬। মাননীয় বিজ্ঞ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করে বাদলগাছী থানাতে প্রেরণ করেছেন।
বিষয়টি গোপনে ও সরেজমিনে গিয়ে এলাকায় জানাযায় বিদেশ গমনে বাঁধা দিলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে স্ত্রী সহ শশুর, শাশুড়ি মিলে আশরাফুলকে লাঠি দ্বারা ব্যাপক মারপিট সহ শ্বাষরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে বাদীনি আশরাফুল ইসলামের মা আছমা আক্তার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে দাবি করেন। সাত বছরের শিশু আছফিয়ার কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন বাবাকে নানা ও নানী লাঠি দিয়ে মেরেছে। উক্ত আসামি গ্রেপ্তার বিষয়ে বদলগাছি থানার ৩৬/২৬ নং মামলার আয়ু, এস, আই ইউসুফের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে, তিনি বলেন দুইদিন অভিযান চালিয়েছি আসামিদেরকে পাওয়া যায়নি ভাই।
আশরাফুলের মামা আমানুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আসামীগন বাড়িতে এবং প্রকাশ্যে বেড়ানো খবর দিলে মামলার আয়ু কোন ভুমিকা নিতে চান না।বরং এড়িয়ে যায়। আমি আয়ু বদলে দিতে চাই। বিদেশে যেতে বাঁধা দেওয়া কারনেই শারিরীক নির্যাতন সহ শ্বাস রুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে।
উক্ত বিষয়ে ওসি লুৎফর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাদীনি সত্য সঠিক বিচার পেতে আন্তরিক ভুমিকা রেখেছি,এবং আসামি গ্রেপ্তারের কৌশলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।