সর্বশেষ সংবাদ :

বাগমারায় ডিজেল সংকটে হুমকির মুখে বোরো চাষ

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: বাগমারায় ডিজেল সংকটের কারণে এবার বোরোর উৎপাদন ব্যাবহত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ উপজেলায় পেট্রোল ও অকটেন সংকটের পাশাপাশি জ্বালানি তেল ডিজেল সংকটও বিরাজ করছে সর্বত্রই। এ কারণে ডিজেল চালিত গভীর নলকুপগুলোতে চাহিদার তুলনায় ডিজেল সরবরাহ কম থাকায় জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে পুরো উপজেলা জুড়ে কৃষকরা এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।
বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌর এলাকায় বোরো জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য মোট ২৪৮ টি ডিজেল চালিত গভীর নলকুপ রয়েছে। এই গভীর নলকূপগুলো সবই ব্যক্তি মালিকানাধীন। এছাড়া উপজেলার দ্বীপপুর, ঝিকরা, বড়বিহানালী, গনিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়ন এবং তাহেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৮০ টিরও বেশি ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিন রয়েছে।
ওইসব শ্যালোমেশিনগুলো দ্বারা ভবানীগঞ্জ থেকে তাহেরপুর পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বারানই নদী থেকে এলাকার কৃষকরা জমিতে সেচ দিয়ে বোরোর আবাদ সহ বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষাবাদ করে থাকেন। কিন্তু চাহিদার তুলনায় ডিজেলের সরবরাহ কম থাকায় গভীর নলকূপ ও শ্যালোমেশিনগুলো প্রায় সব সময়ই বন্ধ থাকছে। সময় মতো ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় বোরো জমির মাঠ ফেটে যাচ্ছে।
এ কারণে এ উপজেলায় এবার বোরোর আশানুরুপ উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন কৃষকরা।
সূত্র মতে, শুধুমাত্র দ্বীপপুর ইউনিয়নের বিলসতি বিলে ৬ টি গভীর নলকুপ এবং ৮ টি শ্যালোমেশিন দ্বারা সেচ দিয়ে প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমিতে এবার বোরো চাষ করা হয়েছে। এইসব গভীর নলকূপ ও শ্যালোমেশিনগুলো সবই ডিজেল দ্বারা পরিচালিত হয়। কিন্তু ডিজেল সংকটের কারণে কৃষকরা জমিতে সেচ দিতে না পারায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
বিলসতি বিলের একটি গভীর নলকূপের মালিক ইসলাম আলী সরদার বলেন, তার গভীর নলকূপের আওতায় এবার ৩শ’ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ চাষ করা হয়েছে। তার পুরো স্কীমের জমিতে সেচ দিতে প্রতিদিন ২২০ লিটার করে ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সংগ্র করতে পারছেন না। এ কারণে সেচের অভাবে তার স্কীমে এবার বোরোর উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন তিনি। ওই বিলের শ্যালো চালিত একটি সেচের মালিক জাফর আলীও একই ধরণের মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ উপজেলায় এবার মোট ১৭ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫ ভাগ জমিতে বিদ্যুৎ চালিত আর ২৫ ভাগ জমিতে ডিজেল চালিত গভীরনলকূপ ও শ্যালোমেশিন দ্বারা সেচ দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপগুলোতে সেচের কোনো সমস্যা না থাকলেও ডিজেল চালিত গভীরনলকূপ ও শ্যালোমেশিনগুলো জ্বালানি সংকটে রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।


প্রকাশিত: April 2, 2026 | সময়: 4:29 am | সুমন শেখ