, , ।
মতলুব হোসেন, জয়পুরহাট: গত বছর আলুতে ব্যাপক লোকসানের কারণে জয়পুরহাটে এবার বেড়েছে সরিষার চাষ। এখন জেলার বিভিন্ন মাঠে মাঠে শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। হলুদের সমারোহ আর ফুলের ঘ্রাণ আকৃষ্ট করছে সবাইকে। সরিষা চাষ তুলনামুলক ভাবে বেশি লাভজনক হওয়ায় আলুর চাষ বাদ দিয়ে কৃষকরা ঝুঁকেছেন সরিসা চাষে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বা¤পার ফলন সহ ভাল লাভের আশা করছেন তারা। এ বিষয়ে বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে জেলা কৃষি বিভাগ।
জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলায় গত বছর প্রায় ৪৪ হাজার হেক্টর জমিতে রেকর্ড পরিমাণ আলুর চাষ করেছিলেন কৃষকরা। এ কারণে গত বছর জেলায় সরিষার চাষ কমেছিল ৪ হাজার হেক্টর কম জমিতে।
কিন্তু গত বছর আলু চাষ করে ব্যাপক লোকসানে পড়েছিলেন কৃষকরা। এ কারণে আলুর লোকসান পোষাতে এবার জেলায় বেড়েছে সরিষার চাষ। গত বছর এই চাষ হয়েছিল ১৪ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫০০ হেক্টরে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর বেশি।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার পুরানাপৈল, দস্তপুর, শালগ্রাম, হালট্টি, জলাটুল সহ বিভিন্ন এলাকা, কালাই উপজেলার বিভিন্ন মাঠ সহ জেলার বিভিন্ন মাঠ এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই কিছু জমির সরিষা গাছে দানা আসতে শুরু করেছে।
কৃষকরা বলছেন, গত বছর আলুর লোকসানের কারণে অনেকেই এবার সরিষার চাষ করেছেন। এই চাষে খরচ যেমন কম, তেমন লাভ প্রায় দিগুণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বা¤পার ফলন সহ আলুর লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তারা।
সদর উপজেলার দোগাছি গ্রামের কৃষক নয়ন হোসেন বলেন, ‘গত বছর আলু চাষ করে আমার প্রায় ১ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এ জন্য এ বছর আলু কম চাষ করেছি আর সরিষা বেশি চাষ করেছি। সরিষার চাষ করলে লোকসানের কোন ভয় থাকে না। খরচ যেমন কম, তেমনি পরিচর্যাও কম। আশা করছি এবার বাজারে সরিষার ভালো দাম পাব।’
কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন, এবার আমি ৫ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। গত বছর করেছিলাম দুই বিঘায়। এবার শুধু বাড়িতে খাবারের জন্য ১৫ শতাংশ আলু চাষ করেছি। সরিষা বিক্রি করব, আর কিছুটা বাড়ির খাবারের তেল করব।
হেলকুন্ডা গ্রামের কৃষক আব্দুল বারী বলেন, এবার সার-কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়েছে। এক বিঘা জমিতে ৮ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। ফলন ভালো হলে এক বিঘাতে ৭ থেকে ৮ মণ সরিষা পাওয়া যাবে। ২ হাজার ৫ শত টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত বাজারে সরিষা বিক্রি হয়। আশা করছি এবার ভালো দাম পাব।
জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) লুৎফর রহমান বলেন, জয়পুরহাট জেলায় চলতি মৌসুমে ১৬ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশি। চাষিরা গত বছর আলুর দাম কম পাওয়ায় অনেকেই এবার সরিষার চাষ করেছেন। আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি। সরিষার গুণগত মান যেন ভালো হয় ও নিরাপদ ভাবে কৃষকরা সরিষা ঘরে তুলতে পারেন এ ব্যাপারে প্রশিক্ষণও দিচ্ছি। আশা করছি, এবার ফলন ভালো হবে এবং কৃষকরা বাজারে ভালো দাম পাবেন।