সর্বশেষ সংবাদ :

অহংকারের একুশে

বাঙালির অমর একুশ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিশ্বের প্রতিটি জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশের বিষয়টি তাদের রাজনৈতিক অধিকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের এ দেশেও সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির পাশাপাশি সব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির স্বকীয়তা প্রকাশের সুযোগ অবারিত রাখা প্রয়োজন।
ভাষার অধিকার মানে শিক্ষার অধিকারও বটে। ভাষার সঙ্গে শিক্ষার যে সম্পর্ক, শিক্ষার সঙ্গে সম্পদ ও ক্ষমতারও সেই সম্পর্ক। দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর ও শিক্ষাবঞ্চিত দরিদ্র মানুষের জীবনে শিক্ষা ও সম্পদের অধিকার না এলে একুশের অর্জন অসম্পূর্ণই থেকে যাবে। আজও জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রবর্তন হলো না। সরকারি কাজকর্মে বাংলা চালু থাকলেও ব্যবসা-বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, গবেষণাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইংরেজিরই প্রাধান্য। বাংলায় আইন প্রণীত হচ্ছে, কিন্তু উচ্চ আদালতে এর ব্যবহার নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিদ্যালয়ে বাংলা অবহেলিত; ইংরেজি মাধ্যমের কাছে বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের কুণ্ঠিত করে রাখার প্রয়াসও চলে। আমাদের প্রয়োজন জাতীয় ভাষা-পরিকল্পনা।
ফেব্রুয়ারি মাস সংস্কৃতির কর্ষণ ও নবায়নেরও মাস। এ মাসজুড়ে সারা দেশে নানা ধরনের অনুষ্ঠান চলে। ঢাকায় মাসব্যাপী বইমেলা উৎসব চলে। আজ সারা পৃথিবীর বাংলাভাষীরা ভাষাশহীদদের স্মরণে যে প্রভাতফেরিগুলো নিয়ে শহীদ মিনারের দিকে যাবেন, তা আসলে যাবে জাতির আত্মাকে জাগরিত করতেও। তবে একুশের চেতনা শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা চলে না। সর্বস্তরে মাতৃভাষার প্রচলন এবং বাংলাদেশে বাংলাসহ সব ভাষাভাষীর গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষা না করে ভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহীদদের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন কী করে হবে?


প্রকাশিত: February 12, 2026 | সময়: 4:40 am | সুমন শেখ