সর্বশেষ সংবাদ :

শেষ মুহূর্তেও নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত: মিলন

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর মাত্র ২ দিন বাকি। শেষ মুহূর্ত এসেও নির্বাচনহারে বানচালের জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম। তারা তাদের বিভিন্ন সংগঠনকে লেলিয়ে দিয়ে এটা করার চেষ্টা করছে। এটা কোনভাবেই হতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি সোমবার বিকেলে নওহাটা স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভার পূর্বের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, জামায়াত বিভিন্ন ধরনের প্রোপাকান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের কোথাও শোনা যাচ্ছে তারা নির্বাচনি ব্যালট পেপার এবং সিল তৈরি করেছে। কোথাও শোনা যাচ্ছে ভোটারদের নিকট থেকে ব্যাংক হিসাব নম্বর নিচ্ছেন। এরকম ঘটনা রাজশাহীর নওহাটাতে হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও হাজার হাজার পিচ বোরকা তৈরি করেছে। এসব বিষয় নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। আসলে তারা পরাজয় জেনে এসব করার চেষ্টা করছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র জনগণ এবার আর মেনে নেবে না কঠোর হাতে প্রতিহত করবে বলে জানান মিলন।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বয়স্ক, যুবক-যুবতীদের সাথে শিশুরা অনেক উৎসাহিত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত একত্রিত করা আলোকে তিনি অত্র এলাকার জনগণের কাছে বলছেন, তিনি নির্বাচিত হলে, কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, বিনামূল্য স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা, বেকারত্ব দূরীকরণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান স্থাপন, সেই সাথে কৃষি ইপিজেড স্থাপন করবেন। শুধু তাইনয় দুইটি উপজেলার একটি রাস্তাও ঠিক নেই। এই রাস্তাগুলো দ্রুততার সাথে মেরামত ও নতুন করে নির্মাণ করবেন। এছাড়াও সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকারিভাবে সম্মানিত প্রদান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ উৎস মওকুফ, বিসিক ২-কে কর্মমুখী করার লক্ষ্য প্লট বরাদ্দে সহজিকরণ করা হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতের এমপি প্রার্থী দীর্ঘ ২৮বছর হড়গ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার মেয়াদের সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা তিনি অনুদান পেয়েছেন। এই টাকা দিয়ে তিনি হড়গ্রাম ইউনিয়নের কোন উন্নয়ন করেননি। অত্র ইউনিয়নে গেলে এর প্রমাণ সবাই দেখতে পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। জামাত শুধু মুখে বুলি ছড়াচ্ছে। আরো অনেককে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তাদের তেমন কোন সমর্থন বা ভোটার নেই।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার এই দীর্ঘ ৫৪ বছরে দেশের যত উন্নয়ন হয়েছে বিএনপি তার সিংহভাগ অংশীদার। এজন্য বিএনপিকে মানুষ বিশ্বাস করে। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু মুসলমান আছে যারা মুসলিমদের নিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, আলেম-ওলামারা হচ্ছে ইসলাম রক্ষার প্রধান নেতা হচ্ছে তারাই। বিষয়টি তাদেরকে দেখার জন্য অনুরোধ করেন।
তিনি আরো বলেন জামায়াত সারাজীবন মোনাফেকি করে আসছে। তারা ১৯৪৭সালে, ১৯৭১ সালে এবং ১৯৯৬ সালেও জনগণের সাথে মুনাফেকি করেছে। তারা আজাজা বাহিনী গঠন করে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। প্রকৃতপক্ষে তারা কখনো একা কোন কাজ করতে পারেনা। মোনাফেক এই দল থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে দুপুর গড়ার সাথে সাথে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতা কর্মী ও সাধারণ ভোটারগণ কলেজ মাঠে এসে জড়ো হতে থাকে। এক ঘন্টার ব্যবধানে কলেজ মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মাঠে জনগণের সংকুলান না হওয়ায় জনগণ রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। সেই সাথে তারা ধানের শীর্ষে পক্ষে রয়েছেন এবং ভোট দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন বলে তারা স্লোগান দিতে থাকেন।
পবা উপজেলা, নওহাটা ও কাটাখালি পৌরসভা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে নওহাটা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিকের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটানের সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন তপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান আলী, অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, রায়হানুল ইসলাম রায়হান, আমিনুল ইসলাম মিন্টু, পবা উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক সুলতান আহমেদ ও আব্দুল আলিম,জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদে জামান সুমন, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, জেলা কৃষকদলের আহবায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত, নওহাটা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক সুজন মোল্লা, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা রুমেনা ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রিতা, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিন, পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ ও নওহাটা পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সোহেল রহমানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।


প্রকাশিত: February 10, 2026 | সময়: 5:14 am | সুমন শেখ