, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: চলতি মাসের ১২ তারিখ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রতিটি এলাকা। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার সকাল থেকে পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ -সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিক হক মিলন।
গণসংযোগের মধ্যে সংক্ষিপ্ত পথসভায় এডভোকেট মিলন বলেন, সারা বাংলাদেশের ন্যায় পবা মোহনপুরেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে ফেলেছেন। মিথ্যা ইতিহাস শিখানো হয়েছে সন্তানদেরকে। সেই সাথে অযোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার পরিবেশটাকে নষ্ট করা হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রাথমিক স্তর হতে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নোংরা রাজনীতি শেখানো হয়েছে। প্রতিটি ক্লাসে প্রতিত সরকারের দলীয় স্লোগান শেখানো হতো। সেই সাথে শপথ গ্রহণ ও আলাদা করে ফেলা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা বিএনপি ক্ষমতায় আসলে সেই জায়গাতে আগে কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন মিলন।
মিলন আরো বলেন, বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যা এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং পতিত সরকারের নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, আবার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি পাননি। চাকরির সমস্ত প্রক্রিয়া সমাপ্ত করেও চাকরিতে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি চাকরিতে যোগদান করার পরেও চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে শুধু বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন করার জন্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এবং তিনি পবা- মোহনপুর আসনে নির্বাচিত হলে বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সেই সাথে শুধু রাজনৈতিক কারণে যারা চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং যারা চাকরির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও যোগদান করতে পারেননি তাদেরকে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করানো হবে বলে প্রতিশ্রুতিদান তিনি ।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া নারীদের উন্নয়নের নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করেছিলেন। সেই সাথে তিনি নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করে নারীদের শিক্ষার হার বৃদ্ধিসহ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের দার উন্মোচন করে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি। নির্বাচনের কোন বাধা এবং নির্বাচনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মিলন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা এখনো কোনো বাধার সম্মুখীন হন নাই। তবে নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন নির্বাচন খেলা খেলছে একটি দল। তারা জনগণের মধ্যে মিথ্যাচার করছে। সেইসাথে তারা বেহেশতের টিকিট বিক্রির নামে জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করছে। মোনাফেক দল থেকে দূরে থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।
এদিকে হরিপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গেলে এলাকায় জনগণের মধ্যে অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দেয়। প্রতিটি পাড়ার জনগণ রাস্তার সামনে নেমে আসেন সেই সাথে কোথাও কোথাও মেয়েরা ছেলেরা একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হয়ে প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করেন। সেই সাথে তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। প্রার্থী তাদের দাবি সমূহ মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং আগামীতে সেগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। তার কথা শুনে এলাকাবাসি খুশি হন সেইসাথে ধানের শীর্ষে ভোট প্রদান করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। শুধু তাই নয় তারা দেশবিরোধী কোন দলকে ভোট দিয়ে সংসদে আনবেন না বলেও জানান। জনগণ শুধু ভোটি দেবে না তারা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছেন এবং আগামীতেও করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময়ে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হাসিবুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল মান্নাফ মুন্নাফ, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সরকারি অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম সাহেবজাদা ও পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক সোহেল রানা সহ হরিপুর ও জেলা বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ে নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।