, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারাঃ রাজশাহীর বাগমারায় মাহাবুর রহমান (৪২) নামের এক ব্যক্তির গলায় ফাঁস ও কুপিয়ে হত্যা করা লাশ কলা বাগান থেকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। মৃত মাহাবুর রহমান উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের হাট মাধনগর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে।
বাগমারা থানার পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে মাহাবুর রহমান মচমইল বাজারে যাবে বলে নিজ বাড়ি হাট মাধনগর গ্রাম থেকে বের হন। তিনি রাতে বাড়িতে না ফিরায় পরিবারের লোকজন তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। ফোনটি খোলা থাকলেও রিসিভ না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয় স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় তাকে খুজাঁখুজি শুরু করেন।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামপুর গ্রামের এক কৃষক গরু চরাতে গেলে নিহত মাহাবুর রহমানের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বাজতে দেখে তিনি রিসিভ করেন। মুঠোফোনে নিহত মাহাবুর রহমানের পরিবারের লোকজন স্থানটির নাম জানতে চাইলে ছেলে রামপুর গ্রামের কথা জানায়। পরিবারের সদস্যরা ফোন নিতে এসে কোন স্থান থেকে ফোনটি পাওয়া গেছে সে দেখতে গিয়ে তারা কলার বাগানের চারি ধার ঘুরে দেখে। এক পর্যায়ে তার পরিবারের সদস্যরা নিহত মাহাবুরের লাশটি কলা বাগানের এক কোনে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার শুরু করে। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হয় এবং মাহাবুর রহমানের গলায় ফাঁস ও কুপিয়ে হত্যা করা লাশটি দেখতে পেয়ে বাগমারা থানার পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ ঘটাস্থলে পৌঁছে মাহাবুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আছে।
পরকীয়ার কারনেই মাহাবুর রহমান খুন হতে পারে বলে ধারনা করেছেন বাগমারা থানার পুলিশ। তবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাছে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাগমারা থানার ওসি সাইদুল আলম। নিহত মাহাবুর রহমানের ঘাড়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে কলার বাগানে নিয়ে গেছে খুনিরা। খুনের ঘটনাটি দেখে পুলিশ ধারনা করেছেন, নিহত মাহাবুর রহমানকে পিছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড়ে কোপ দেয়। তিনি পড়ে গেলে তার গলায় দড়ি লাগিয়ে তাকে টেনে হেঁচড়ে কলার বাগানের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, খুনের ঘটনাটি দেখে মনে হচ্ছে পিছন থেকে প্রথমে গাড়ে কোপ দিয়ে মাটিতে ফেলে গলায় দড়ি দিয়ে টেনে হেঁচড়ে কলার বাগানের মধ্যে নিয়ে যায় খুনিরা। কি কারনে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে, এম প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ধারনা করা হচ্ছে পরকীয়ার জন্য খুনের ঘটনা ঘটতে পারে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। অল্প সময়ের মধ্যেই খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনবেন বলে তিনি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন।