বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
জয়-পরাজয়ের হিসাব নিকাশের বাইরেও এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা আবার উৎসাহ কাজ করছে। প্রায় ১৭ বছর পর একটি প্রতিযোগিতা মূলক নির্বাচনের দিকে আগাচ্ছে দেশ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে সামনে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট। তবে চারঘাট বাঘায় বিগত নির্বাচনে বিএনপির শরীক দল হিসাবে জামায়াতে ইসলামী মাঠে থাকলেও এবার তাঁরা নিজেরা একে-অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন। এর ফলে প্রচারনার প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে বিষাদ গাচ্ছেন।
বিএনপির দুর্গ হিসাবে এই আসনে জয় লাভের স্বপ্নে মাঠ চষছেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়ার সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ। তাঁর সাথে রয়েছেন অসংখ্য নেতা-কর্মী। অপর দিকে বসে নেই জামাতে ইসলামী বাংলাদেশ। এ আসনে বিগত সময়ে তারা বিএনপির সাথে জোট হিসাবে ভোট করে জয়যুক্ত হলেও এবার বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে একক প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নাজমুল হককে। তার সঙ্গেও রয়েছেন, দলের সকল নেতা-কর্মীরা । এই অসনটি তারা এবার পাওয়ার আসায় একেবারে নড়ে-চড়ে বসছেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন । বিশেষ করে নারীদের ভোট বিএনপির চেয়ে তারা বেশি পাবেন বলে ধারনা করছেন সুশীল সমাজ।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী বলেন, গত বছর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তারা নির্বাচন নিয়ে কাজ শুরু করছেন। বিশেষ করে এদেশে নারীদের ভোট বেশি হওয়াই তারা সারাদেশব্যাপী প্রাতিদিন পাড়া-মহল্লায় নির্দিষ্ট বাড়ি সিলেকশন করে সেখানে প্রতিবিশী নারীদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে সৎ মানুষের পক্ষে ভোটের রায় দিয়ে দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার আহবান জানিয়ে আসছেন। এতে আশানুরুপ সাড়া পাওয়া গেছে। তারা বিশ্বাস করছেন, আসন্ন নির্বাচনে তারা জয়যুক্ত হবেন।
অপর দিকে প্রচারের প্রথম দিন থেকেই প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পর একে-অপরের বিরুদ্ধে আক্রমনত্মক বক্তব্য শুরু করেছেন কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে। এর ফলে প্রথম দিকে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিশেষ কিছু আঁচ করা না গেলেও এখন বিএনপি ও জামায়াত পরস্পর বিরোধী শক্ত অবস্থানে যাওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। বিএনপির নেতারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী দলটির ভূমিকা ও দেশ বিরোধী কার্যক্রম এবং বর্তমানে ধর্মের অপব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ ছুড়ছেন। এর প্রতিবাদে বাঘা সদরে ইতোমধ্যে জামাতে ইসলাম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ক্ষোভ মিছিল করেছেন।
বিএনপির প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, রাজশাহীর মাটি হলো বিএনপির ঘাটি। ১৯৭১ সালের পর থেকে ২০০৪ সালের আগ পর্যন্ত এই জেলার প্রতিটি আসন ছিলো বিএনপির দখলে। তিনি বলেন, আমি রাজনীতি থেকে শুরু করে জীবনে কোনদিন কোন কাজে পরাজিত হয়নি। ইনশাল্লা এবারও হবো না। আমার বিশ্বাস মানুষ আমাকে তাদের মুল্যবান ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।
তিনি আরো বলেন, এবার নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগে থেকে জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে, দলটির মহিলা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের বিভ্রান্ত করছেন। তাঁরা এনআইডি কার্ড সংগ্রহ করছেন, মোবাইল ফোন নম্বর নিচ্ছেন। এ কারণে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের অবরুদ্ধ করা-সহ দেশের কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অপর দিকে জামাতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক বলেন, আমি কোরআন এবং সৃষ্টি কর্তাকে বিশ্বাস করে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছি। এ অঞ্চলের মানুষ জানান, কোন রাজনৈতিক দল কি-ধরণের কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আমার নির্বাচনী ওয়াদা,যদি সৃষ্টি কর্তা আমাদেরকে সরকার গঠন করার সুয়োগ দেন, তাহলে দেশে কোন অনিম-দুর্ণীতি হবেনা। মানুষের জানমাল রক্ষা সহ এই দেশের উন্নয়ন করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য এবং প্রথম কাজ। তিনি ভোটের ময়দানে মানুষের দোয়া কামনা করে বলেন, নারীরা ভোট চাইতে পারবেনা এমন কথা কোথাও বলা নেই। ভোট সব দলের নারীরাই চাচ্ছে। এদিক থেকে সকলের অধিকার রয়েছে।তাবে আমাদে নারীরা পর্দা করে ভোট চাইলে অন্যদের এতো লাগছে কেনো এটা আমার বোধগম্য নয়।
সানশাইন /শামি