সর্বশেষ সংবাদ :

বেগম জিয়া কখনো অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি: মিলন

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের সাথে আপোস করেননি। কোন লোভ ও লালসা তাঁর ছিলোনা। তিনি ছিলেন সাদাসিধে একজন গৃহবধু। তিনি স্বামী সন্তান নিয়ে সম্পূর্ন গৃহীনি হিসেবে ঘরের মধ্যে থেকেছেন বলে সোমবার বিকেলে পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়ন এলাকাবাসীর আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনি, আপোসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দাদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা মোহনপুর আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
তিনি বলেন, বিএনপি বরাবরই জনগণের আশা-আকাংখার একটি দল। এই দল যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন দেশের মানুষ নিরাপদে ও নিরিবিলি চলাফেরা এবং বসবাস করতে পারে। কারন বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন দেশে খুন, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, মাদকের ব্যবহার অনেক কম ছিলো। কিন্তু পতিত সরকারের আমলে তা শতভাগ বেড়ে যায়। সে সময়ে দেশে কোন প্রকার শৃংখলা ছিলোনা। যে যেভাবে পারে দুর্নীতি করে গেছে। পতিত সরকারের কথিত প্রধানমন্ত্রী খুনি হাসিনার পিয়ন চার হাজার কোটি টাকার মালিক। শুধু তাইনয় ঐ সময়ে দেশে কোন প্রকার গণতন্ত্র ছিলোনা।
তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন সবাইকে শিখিয়ে গেছে অতিবাড় বাড়লে কি হয়। ভবিষ্যতে কোন ও ব্যক্তি পতিত সরকারের ন্যায় কাজ করতে পারবেনা। কেউ করলে তারও আওয়ামীলীগের মত পরিণতি হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ সতের বছর পরে সে সময়ের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। কিন্তু তিনি বাড়ি বা মায়ের পাশে না যেয়ে জনগণের কাতারে আগে আসেন। কারণ একজন নেতার মূল কাজ হচ্ছে জনগণের সেবা করা।
মিলন বলেন, তিনি বিশাল জনসমুদ্রের মাধ্যমে সবার সাথে সাক্ষাত করে বিকেলে এভার কেয়ার হাসপাতালে মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান। এরপর তিনি বাড়িতে যান। কিন্তু ৩০ ডিসেম্বর সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। এই শোকও তারেক রহমানকে বহন করে বেড়াতে হচ্ছে। সকল সন্তান চায় মায়ের পাশে পাশে থাকতে। কিস্তু তিনি তা পারেননি। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। এরপর তিনি সর্বদা জনগণের পাশেই আছেন বলে জানান তিনি। আগামী ২২ জানুয়ারী থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন বলে উল্লেখ করেন মিলন।
তিনি বলেন, তারেক রহমান তিনি তার মা ও বাবার পথেই হাটা শুরু করেছেন। তিনি বরাবরই জনগণের মনের মধ্যে ছিলেন, এখন আরো বেশি করে জনগণের মনি কোঠায় জায়গা পেয়ে গেছেন। এটা দেখে কুচক্রীমহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। এই ষড়যন্ত্র করে কোন লাভ হবেনা। কারন জনগণ এখন একতাবদ্ধ হতে শিখেছে। আর এটা শিখিয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সার্বক্ষণিক বলতেন, হিংসা কিংবা বিদ্বেষ নয়। সবাইকে নিয়ে পথ চলতে হবে। তিনি নির্যাতিত হলেও তাঁর দ্বারা যেন কেউ নির্যাতিত না হয় সেদিকে তিনি সতর্ক থাকতেন বলে জানান মিলন।
মিলন বলেন, বেগম জিয়াকে নানাভাবে নির্যাতন করা হতো। বিনা কারণে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলা দিয়ে সাজা প্রদান করে দীর্ঘ সোয়া ছয় বছল কারাগারে রেখেছিলো খুনি হাসিনা। অসুস্থ হলে তঁািকে চিকিৎসা করতে দেয়নি। এভাবে তিনি ধীরে ধীরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হতে থাকেন। যার পরিণতি হচ্ছে ৩০ ডিসেম্বর। তিনি সেদিন ইন্তেকাল করেছেন। তিনি তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এদিকে এদিন সকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে যারা দেশ স্বাধীন করেছেন তারাই হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বীর মুক্তিযোদ্ধারা যদি যুদ্ধ না করতেন তাহলে বাংলাদেশ নামে কোন ভূখণ্ড রচিত হতো না।আর এই যুদ্ধের মূল নায়ক ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি ২৬ শে মার্চ রাতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার মধ্যে দিয়েই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের দামামা বেজে উঠে বলে সোমবার বেলা ১১ টায় জেলা ও মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজনে রাজশাহী মহানগর বিসিক এলাকায় স্বাধীনতার ঘোষক, উন্নয়নের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পবা-মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমানের অবদানের কথা বলে শেষ করার নয়। তিনি মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করার জন্য ওআইসি গঠন করেছিলেন। শুধু তাই নয় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে তিনি কৃষির উপরে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি সেচ কার্যের মাধ্যমে এক ফসলের জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করেন। সেই সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য ১৯ দফা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। যে কর্মসূচি আজও বিশ্ব জুড়ে সমাদৃত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অত্যন্ত সম্মান করতেন। মহান এই মানবকে ১৯৮১ সালে দুষ্কৃতিকারীর হত্যা করে।


প্রকাশিত: January 20, 2026 | সময়: 5:14 am | সুমন শেখ

আরও খবর