, , ।
স্টাফ রিপোর্টার: মা মারীয়ার মহাতীর্থোৎসব পালিত হয়েছে, শুক্রবার ১৬ জানুয়ারি সকাল সাড়ে নয়টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার নবাইবটতলা ধর্মপল্লীতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মা মারীয়ার মহাতীর্থোৎসব পালিত হয়েছে।এই মহাতীর্থোৎসবের খ্রীষ্টজাগে পবিত্র মিশা প্রদান করেন দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশীয় বিশপ- সেবাস্টিয়ান টুডু।
সহযোগিতা করেন নবাইবটতলা ধর্মপল্লীর যাজক স্বপন পিউরিফিকেশন, উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর উত্তম মেষপালক ধর্মপল্লীর যাজক ফাবিয়ান মারান্ডি, দিনো পিমে, লিবিও পিমে, কার্লো পিমে, সৃজন এসজে, উইলিয়াম মুর্মুসহ, ডিকন, ব্রাদার, সিস্টারগন অংশগ্রহণ করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী এই অঞ্চল ঘিরে নেয়, তখন মা মারিয়ার গির্জায় প্রাণ বাঁচানোর জন্য আশ্রয় নেয় এই অঞ্চলের আদিবাসী ও খ্রিস্টধর্মাবলম্বী মানুষরা, প্রাণ বাঁচানোর জন্য মা মারীয়ার নিকট ভক্তি ভরে প্রার্থনা করেন, এবং পাক হানাদার বাহিনী তাদেরকে অস্ত্র দিয়ে করলে, গুলি বের হয় না ও তাদের প্রানে মারতে ব্যার্থ হয় এবং পাশের ডাইংপাড়া গ্রামে আগুন দিয়ে চলে যায়। গীর্জায় আশ্রিত সকলের বিশ্বাস মা মারীয়ার কৃপাশক্তিতে তারা প্রানে বেঁচেছে ও নতুন জীবন পেয়েছে। তখন থেকেই প্রতিবছর এই পূনভুমিতে মহাতীর্থোৎসব পালিত হয়।
খ্রীষ্টজাগ ও মিশায় ধর্মযাজকেরা তাঁদের উপদেশে মা মারীয়ার ত্যাগ, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় মা মারীয়ার আদর্শ বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
মহাতীর্থোৎসবে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্টভক্ত অংশগ্রহণ করেন। প্রার্থনা, শাস্ত্রীয় সংগীত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই তীর্থোৎসব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।মিশায় দেশ ও মানবজাতির মঙ্গল কামনায় বিশ্বশান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।