সর্বশেষ সংবাদ :

শেকড় থেকে শিখরে ডিএম জিয়া

মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী ৪ বাগমারা আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।
তিনি ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে ওঠে এসেছেন জাতীয় রাজনীতিতে। একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যারন নির্বাচিত হয়েছেন। পরে এক চান্সেই উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডিএম জিয়া। এবার তিনি ধানের শীষের এমপি পদপ্রার্থী। বলা যায় শেকড় থেকে শিখরে ওঠে পড়েছেন ডিএম জিয়া। ডিএম জিয়ার শেকড় বাগমারার মাটি ও মানুষ।
ইতোমধ্যে যাচাই বাছাই অন্তে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। ডিএম জিয়া এখন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা গণসংযোগে ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ডিএম জিয়ার আহবানে এরি মধ্যে বাগমারার হামিরকুৎসা হাইস্কুল মাঠের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক নাটোরের কৃতিসন্তান উত্তর বঙ্গের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এ্যাড, এম রহুল কুদ্দুস তালাকদার দুলু।
ওই জনসভায় দুলু ডিএম জিয়াকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করার জন্য বাগমারাবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান। দুলুর এই আহবানে বাগমারাবাসী চাঙ্গা হয়ে ওঠেন। তারা ডিএম জিয়াকে বিজয়ী করার জন্য জানপ্রান ছেড়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।
এদিকে ডিএম জিয়া বাগমারা আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতে চলেছেন। তাঁর কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই এমন ধারনায় উল্লাসে ফেটে পড়েছেন বাগমারা উপজেলার তৃণমূল বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রত্যাশা ডিএম জিয়ার হাত ধরেই এক সময়ের বিএনপির ঘাটি বাগমারা আসনটিতে আবার বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীদের মতে, ডিএম জিয়া দলের জন্য একজন নিবেদিত প্রাণ নেতা। তিনি দুর্দিনে দলকে সংগঠিত করেছেন। জেল জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। বিগত ফ্যাসিবাদ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে শত শত বিএনপির নেতা কর্মীর নামে মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে তাদেরকে যখন বাড়ি ছাড়া করা হয়। ডিএম জিয়া সে সময় এসব নির্যাতিত নেতা কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন এবং আদালতে মামলা পরিচালনা সহ তাদের জামিন করার ব্যাপারে অবিরাম ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।
স্থানীয় নেতা কর্মীরা জানান, ডিএম জিয়া একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ। বিএনপির হাইকমান্ড যথাযত এবং সার্বিক তদন্ত করেই তাঁর মত একজন যোগ্য নেতাকেই বেছে নিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে আমরা দলের হাই কমান্ডকে সাদুবাদ জানাই।
তাদের মতে, ডিএম জিয়া ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে ওঠে এসেছেন। তাঁর পিতা মরহুম ডিএম মজিবুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ রাজনীতিবিদ সমাজ সেবক। তিনি বৃটিশ আমল থেকেই ইউনিয়নের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তিন তিন বার ইউপি সদস্য পরবর্তীতে একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন মজিবুর রহমান।
পারিবারিক ভাবেই ডিএম জিয়া বাবার কাছেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি পান। ডিএম জিয়াও ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে ওঠে আসেন। একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান ও পরবর্তীতে এক চান্সেই বিপুল ভোটে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ডিএম জিয়া। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে আওয়ামী লীগের হেভি ওয়েট প্রার্থী রাজশাহী জজ কোর্টের তৎকালীন পিপি এ্যাড ইব্রাহীম হোসেনকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তার ছেড়ে দেওয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদে তার ছোট ভাই ডিএম শাফি বিপুল ভোটে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে আউসপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে আসীন আসেন ডিএম শাফিকুর রহমান শাফি।
দলীয় একাধিক সূত্র মতে আওয়ামী লীগের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে তৎকালীন ফ্যাসিবাদ সরকারের দোসর তৎকালীন এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক ডিএম জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠে পড়ে লাগেন। তাঁর নামে দেড় ডজন মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। ডিএম জিয়ার মিছিলে হামলা চালানো হয়। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা দিয়ে পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয় ডিএম জিয়া সহ শত শত বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে।
উপজেলা তাঁতি দলের আহবায়ক মামুনুর রশিদ মামুন জানান, ডিএম জিয়া ভাই একজন সৎ ও যোগ্য নেতা। দলীয় গ্রুপিং এর কারণে তার নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে নিন্দা বদনাম ও অপবাদ ছড়ানো হয়েছে। যা এখনও অব্যাহত আছে। এসবই য়ড়যন্ত্র।
ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, ডিএম জিয়া এর আগে আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতনের সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার তিনি এমপি হয়ে বাগমারা থেকে ঘুষ দুর্নীতি চাঁদাবাজি দখলবাজি মাদক দূর করে শান্তির বাগমারা প্রতিষ্ঠা করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ভবানীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আব্দুর রাজ্জাক জানান, ডিএম জিয়ার মনোনয়ন কোন টাকার বিনিময়ে হয়নি। তিনি যোগ্য দক্ষ এবং সৎ। আজ এটাই প্রমানিত হয়েছে।
বাগমারা বিএনপির ঘাটি ছিল আছে আগামীতে থাকবে। এবারে ধানের শীষ নিয়ে ডিএম জিয়া সেটাই প্রমান করবেন। তাহেরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র আবু নাইম সামছুর রহমান মিন্টু জানান, দূর্দিনে দলের হাল ধরেছেন ডিএম জিয়া, মামলা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ডিএম জিয়া। দল তাঁর প্রতি সুবিচার করেছেন। তিনিই হবেন আগামীর এমপি বাগমারার গণমানুষের এমপি।
ডিএম জিয়াই একমাত্র নেতা যিনি দলের গ্রুপিং দ্বন্দ্ব হিংসা বিদ্বেষ অবসান করে দৃঢ় ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাগমারা বিএনপিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবেন এবং আপামর বাগমারাবাসীর এমপি হয়ে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।


প্রকাশিত: January 6, 2026 | সময়: 1:03 am | সুমন শেখ