সর্বশেষ সংবাদ :

চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, দুইজন গ্রেপ্তার

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে টাকা চুরির অভিযোগে সুজন আলী (২৭) নামের এক যুবককে আটক করে রাতভর পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সেলিম হোসেনসহ চার জন এবং অজ্ঞাত নামা ৬ থেকে ৭ জনকে আসামী করে আক্কেলপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী মারুফা খাতুন। এ ঘটনায় মামলার পর বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ২ নম্বর আসামী সোনাভান এবং তার স্বামী ৩ নম্বর আসামী আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রায়কালী ইউনিয়নের পাইকড় দাড়িয়া গ্রামে সুজন আলীর খালাতো বোন সোনাভানের বাড়ি থেকে ৭০ হাজার টাকা চুরি হয়। এ ঘটনায় সোনাভান ও তার স্বামী আব্দুল কুদ্দুস ওইদিন সন্ধ্যায় সুজন আলীকে মোবাইল ফোনে বাড়িতে ডেকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে মারপিট করে।
পরে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ইউপি সদস্য সেলিম হোসেনকে খবর দিয়ে তার হাতে তুলে দেন তারা। সেলিম হোসেন কাশিড়া বাজারে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে সুজনকে এনে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ে তাকে রাতভর মারপিট লাঠিপেটা করে আটকে রাখেন। এতে সুজন গুরুত্বর আহত হন। তাকে চিকিৎসা না দিয়ে আটকে রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে সুজন মন্ডল মারা গেলে হত্যার ঘটনাটি আড়াল করতে তার গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে ছাদের ফ্যানের হুকের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। যাতে সে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজানো যায়।
পরে ইউপি সদস্য সেলিম হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে সুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে ইউপি সদস্য সেলিম হোসেন পলাতক রয়েছেন।
নিহতের স্ত্রী মারুফা আক্তার বলেন, সেলিম মেম্বার সহ তারা আমার স্বামীকে টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে রাতভর চরম মারপিট করেছে। তার মাথায় আঘাত করায় মাথা ফেটে গেছে। সেখানে ব্যান্ডেজ করা আছে। চুরি করলে তার বিচার আছে? কেন তাকে থানায় না দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করলো। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে ইউপি সদস্য সেলিম হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় সুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের কালচে দাগ রয়েছে।
ওইদিন সন্ধ্যায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করলে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। শুক্রবার তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে।


প্রকাশিত: December 20, 2025 | সময়: 1:29 am | সুমন শেখ