, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, গোদাগাড়ী: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃক স্থাপিত প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ তিন দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।
গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির উদ্যগে রবিবার ১৪ ডিসেম্বর সকালে ডাইংপাড়ামোড়ে এলাকায় নেসকো কার্যালয়ের সামনে এ মানবববন্ধন হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে তুলে ধরা দাবিগুলো হলো- ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করতে হবে, ৫০-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের একই মূল্য নির্ধারণ করতে হবে ও গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া ডিমান্ড চার্জ বাতিল করতে হবে।
আয়োজকরা অভিযোগ করেন, ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এটি জনদুর্ভোগ ও জনবিরোধী সিদ্ধান্ত। গোদাগাড়ীতে সরকারি অফিসে পোস্ট-পেইড মিটার চালু থাকলেও সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রিপেইড মিটার। এতে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত বিলের বোঝা বাড়ছে। তাই অবিলম্বে এ ধরনের মিটার স্থাপন বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই তিন দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। জরিপ ছাড়া জোরপূর্বক গ্রাহকদের ওপর এই প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। রাজশাহীতে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় উপজেলাবাসী কঠোর আন্দোলনে নামবে।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকদের একটি প্রতিনিধি দল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুস সাদাত রত্ন’র কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আগে টাকা পরে বিদ্যুৎ এই নীতি রাজশাহীবাসী মেনে নেবে না। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রিপেইড মিটার সংযোগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যা একচেটিয়া বাণিজ্যিক স্বার্থে একটি চক্রের হাতে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, প্রিপেইড মিটারে মাঝেমধ্যে ভুতুড়ে বিল আসে। কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় ব্যালেন্স না দেখা যাওয়া, রিচার্জ করার পরও ইউনিট না পাওয়া, সার্ভার সমস্যায় অকেজো হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। মিটার নষ্ট হলে বদলি হিসেবেও প্রিপেইড মিটার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। রিচার্জ করার সময় অতিরিক্ত ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ কাটা হচ্ছে। বয়স্ক ও অশিক্ষিতদের জন্য এ মিটার ব্যবহার জটিল হয়ে পড়েছে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ডক্টর ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি এ্যাডভকেট সালাহউদ্দীন বিশ্বাস, গোদাগাড়ী নাগরিক স্বার্থ-সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক বরজাহান আলী পিন্টু, অধ্যাপক মজিবুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মশিউর রহমানসহ অনেক ভুক্তভুগী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীর বক্তব্য রাখেন।