সর্বশেষ সংবাদ :

ক্লাসে আগ্রহ নেই, কোচিং নির্ভর হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা দিন দিন ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। যার ফলে স্কুল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে কোচিং নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
এদিকে শিক্ষকরা নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে এখন অনেক সময় দিচ্ছেন কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনিতে। শিক্ষার্থীদেরও বাধ্য করা হচ্ছে সেই কোচিংয়ে অংশ নিতে।
অভিযোগ রয়েছে, যারা কোচিং করে না, পরীক্ষায় তাদের তুলনামূলকভাবে কম নম্বর দেওয়া হয়। এতে অভিভাবকরা পড়ছেন বিপাকে, আর শিক্ষা হারাচ্ছে তার মূল লক্ষ্য জ্ঞান ও মূল্যবোধের বিকাশ।
উপজেলা প্রশাসনের কাছে ছয় মাস আগে এক জন কলেজ শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছিলেন একটি কোচিং সেন্টার থেকে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি দুর্বল হওয়ায় কোচিং বাণিজ্য দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
কোচিং ব্যবসা এখন শুধু শহরে সীমাবদ্ধ নেই; ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামাঞ্চলেও। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এটি ‘বিষফোঁড়ার’ আকার ধারণ করেছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে ক্লাসে আগ্রহ হারিয়ে কোচিংয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
একজন অভিভাবক সময়ের আলোকে বলেন, ‘স্কুলে শিক্ষকরা ঠিকমতো ক্লাস নেন না। বরং বলেন, কোচিংয়ে গেলে ভালো নম্বর পাবেন। এতে বাচ্চারা ক্লাসে মনোযোগ হারাচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকরা নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং দিতে পারেন না। তবে বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের ভারসাম্যহীনতা, পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব ও অভিভাবকদের সচেতনতার ঘাটতি এ সমস্যাকে আরও জটিল করছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, কোচিং সংস্কৃতি বন্ধ না করলে মূলধারার শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়। তারা বলছেন, শ্রেণিকক্ষ কেন্দ্রিক শিক্ষাকে আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ করতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
মাটিকাটা আদর্শ ডিগ্রী কলেজের শিক্ষক অসীম আকরাম বলেন কোচিং সেন্টারের কারণে কলেজে উপস্থিতি কমছে। শিক্ষকরা যদি ক্লাসে যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে কোচিংয়ের প্রয়োজন থাকবে না। কোচিংকে নির্ভরতার জায়গা না বানিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে হবে স্কুল ও কলেজমুখী হতে।
কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টানা না গেলে, শিক্ষা ব্যবসায় পরিণত হবে। শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষক তদারকির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। নইলে শিক্ষা হারাবে তার মৌলিক উদ্দেশ্য, আর জাতি হারাবে মেধা ও নৈতিকতার ভিত্তি।


প্রকাশিত: October 27, 2025 | সময়: 6:28 am | সুমন শেখ

আরও খবর