, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: সারের বরাদ্দ ব্যবস্থায় বিদ্যমান অসম বৈষম্য দূরীভূত করে সমতার ভিত্তিতে বিতরণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নওগাঁর বিএডিসি সার ও বীজ ডিলার এসোসিয়েশনের নেতারা। এই দাবিতে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের কাছে স্মারক লিপি দেন সংগঠনটির নেতারা। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাছেও একই দাবিতে স্মারকলিপি দেন।
তাদের দাবি বিএডিসি ও বিসিআইসির সার ডিলারদের মধ্যে বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থায় বৈষম্য দূরীকরণপূর্বক সমতা প্রতিষ্ঠার। বিএডিসির নওগাঁর সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হুদা রেজাউন নবীর নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার ডিলার খোরশেদ আলম, রাণীনগর প্রতিনিধি লোকমান আলী, আত্রাই প্রতিনিধি সুমন কুমার, মহাদেবপুর উপজেলার প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ, বদলগাছী প্রতিনিধি খলিলুর রহমান, সাপাহার প্রতিনিধি গোপাল চন্দ্র, পোরশা প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান ও নিয়ামতপুর প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম সহ অন্যান্য সার ডিলাররা।
এসময় বিএডিসির জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর অনুমোদিত সার ডিলারগণ জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি নীতিমালার আলোকে বহুদিন ধরে কৃষকদের নিকট সার বিতরণ করছি। বর্তমানে সারের বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থায় আমরা এক চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছি, যা আমাদের পেশাগত কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর ডিলারগণকে ৪টি উৎস থেকে সার বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে। অথচ আমাদের বিএডিসি’র সার ডিলারদের কেবলমাত্র বিএডিসির মাধ্যমে আমদানিকৃত নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের জন্য অন্য কোনো উৎস থেকে বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে না। এতে সরকার কর্তৃক বিসিআইসির ডিলারদের মতো সারের বরাদ্দ না দেওয়ার ফলে কৃষকদের নিকট চাহিদা মোতাবেক সার সরবরাহ করতে পারিনা। যার কারণে আমরা বিএডিসির ডিলাররা একটি অসম ও অসুস্থ প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছি। সারের বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থায় এরুপ অসম বৈষম্য চলতে থাকলে দেশে খাদ্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে এবং কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত নভেম্বর মাসের বরাদ্দপত্রে দেখা যাচ্ছে, বিএডিসি’র বরাদ্দের চাইতে বেসরকারি আমদানিকারকদের সারের বরাদ্দ বেশী প্রদান করা হয়েছে। এতে করে এককভাবে লাভ হবে বিসিআইসির সার ডিলারদের। বিএডিসি’র ডিলারকে বেসরকারি সারের বরাদ্দ প্রদান করা হয় না। যা আমাদের প্রতি একটি সুস্পষ্ট বৈষম্য এবং বৈপরীত্য তৈরি করছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হুদা রেজাউন নবী বলেন, বিসিআইসির ন্যায় বিএডিসির সার ডিলারদেরকেও বেসরকারি বরাদ্দসহ অন্যান্য উৎস থেকেও বিএডিসি ডিলারদের সার বরাদ্দ দেওয়া হলে মাঠপর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে ও যথাসময়ে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব।
এজন্য আমাদের এই ন্যায্য দাবিগুলো বিবেচনায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কৃষি উৎপাদন, সার সরবরাহ এবং সারবাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। অন্যথায়, চলমান বৈষম্যর ফলে আমাদের সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে না, যা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।