, , ।
আসাদুজ্জামান মিঠু: চওড়া সড়কে একাধিক সরু কালভার্টগুলো যেন এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে উঠেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে শতশত যানবহন। সামান্য অসর্তকতা থেকে গাড়ি চালালেই ঘটে যাবে বড় দুর্ঘটনা। রাজশাহী মহানগরী হতে তানোর উপজেলার যোগাযোগের প্রধান সড়কের চিত্র এটি।
সড়কটি সেই তিন দশক আগে কাঁচা থেকে ১০ ফিট চওড়ায় পাকা করণ করা হয়েছিল। পাকা করণের সময় সড়কের এপাশের পানি অন্য পাশে নিস্কাশনের জন্য পাকা সড়কের ১০ ফিট চওড়ার আদলেই করা হয় একাধিক সরু কালভার্ট।
তিন দশকে এ সড়কটি একাধিক বার সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সম্প্রসারণের কারণে সড়কটি এখন ১০ ফিট থেকে ২০ ফিট চওড়া হয়েছে। সড়ক চওড়া হলেও সেই তিন দশক আগের কালভার্টগুলো এখনও আগে মতই সরু রয়েছে। আর এসব সরু কালভার্টে ৩০ বছর যাবত অতিঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবহন। এতে বেড়েই চলছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এসব সরু কালভার্ট গুলোকে ভেঙ্গে নতুন করে চওড়া রাস্তার মাপে সেতু বানানোর প্রতিশ্রতি দিলেও একযুগের বেশি সময়ও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
বিশেষ করে মুল সড়কটির মুণ্ডুমালা পৌরসভা থেকে তানোর উপজেলা ১২ কিলোমিটার। এ ১২ কিলোর মধ্যে ৬টি কালভার্ট এমন সরু যে একটি বাস বা একটি ট্রাক কালভার্টের উপর উঠলে পাশে একটি মানুষ পায়ে হেঁটে যাওয়ার মতো জায়গা থাকে না। অনেক কালভাটের পরিবহনের ধাক্কায় সাইড ওয়াল ভেঙে, রডগুলো দুমড়ে, মুছড়ে গেছে।
তথ্য মতে, রাজশাহী বায়া থেকে তানোর উপজেলার বুক চিরে চলে গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা পর্যন্ত। তানোরের সবচেয়ে ব্যস্ত সড়কটি নির্মাণের শুরুতে ১০ ফিট প্রসস্ত করা হয়েছিলো। এরপরে আরো কয়েক দফা রাস্তাটি সম্প্রসারণের কাজ করা হয়েছে। শেষে এসে রাস্তাটির প্রসস্ত ঠেকেছে ২০ ফিটে। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সরু কালভার্ট রেখেই নতুন করে রাস্তার সম্প্রাসারণ করায় স্থানীয় জনসাধারণ ও রাস্তা চলাচল কারী যানবহন চালকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এসব কালভার্ট পারাপার হতে গিয়ে মালবাহী ট্রাকসহ ছোট বড় যানবহন প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনায় পড়ছে। বিশেষ করে রাতে প্রশস্ত রাস্তার মাপে গাড়ি চালাতে গিয়ে সরু কালভার্টে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা বেশি ঘটছে।
তানোর উপজেলা ফায়ার সাভির্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ বছরে রাজশাহী-তানোর-আমনুরা রাস্তায় ৩২০টি মত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাতে প্রাণহানী হয়েছে দেড় ডজনের বেশি ব্যাক্তির। আহতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
২০১৭ বছর জানুয়ারি মাসেই তানোর-আমনুরা রোডের দেবিপুর মোড় এলাকায় সরু কালভাটের কাছে নির্মাণাধীন হিমাগারের মালামাল রাখায় চলন্ত ট্রাকের নিচে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে তানোর উপজেলায় কর্মরত সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাকসুদা খাতুন মারা যায়।
সবশেষ ২০২০ সালে শুরুতেই যাত্রীবাহি বাস চিনাশো নামক স্থানে নিযন্ত্রন হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গিয়ে দুই জনের প্রাণহানী হয়। এর বাইরে রাতে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটলেও এর কোন তথ্যের হিসাব কোন প্রতিষ্ঠনের কাছে নেই।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তানোর অফিসের তথ্য মতে, ১৯৯২ সালে বরেন্দ্র বহুমুখি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) আমনুরার ধামধুম থেকে-তানোর হয়ে রাজশাহীর বায়া পর্যন্ত প্রায় ৪৩ কিলোমিটার ১০ ফিট প্রশস্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করে।
এরপর থেকে বিএমডিএ রাস্তাটির দায়িত্ব পালন করছিল। ২০১২ সালে বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ এলজিইডি কাছে ৪৩ কিলোমিটার রাস্তাটি হস্তান্তর করে। সে থেকে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপান। এলজিইডি পর্যায়ক্রমে মুন্ডমালা থেকে বাগধানি পর্যন্ত রাস্তাটির সম্প্রাসারণ করে ২০ ফিট। সবশেষ ২০২৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ সরু কালভার্ট রেখেই পূণরাই আবারও রাস্তাটি সম্প্রাসারণ করা হচ্ছে।
রাজশাহী হতে তানোর-মুন্ডুমালায় চলাচল রত একাধিক যানবহন চালক জানান, রাস্তা থেকে কালভার্ট অনেক সরু হওয়াই কালভার্টের উপরে গাড়ি উঠলে আর কোন জায়গা থাকে না। কালভার্টের কাছাকাছি গিয়ে সামনের গাড়ি থাকলে সেখানে কে আগে পার হবে এ নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া রাতে এ রাস্তায় গাড়ি চালাতে আরো বেশি সমস্যা হয়।
চালকেরা গাড়ি পারাপারের সময় অনেকে ব্যালেন্স হারায় কালভার্টের সাইড ওয়ালে ধাক্কা খায়। এতে নিজেরাই আহত বা নিহত হয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি) তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুর নাহার বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। কালভার্ট-ব্রিজগুলো অতিঝুঁকিপুর্ণ স্বীকার করে তিনি বলেন। কালভার্টগুলো সম্প্রাসারণ করতে আমরা দ্রত পদক্ষেত নিবো।