সর্বশেষ সংবাদ :

নারী ভোটার ১১ হাজার, প্রার্থী মাত্র ২৫ জন: রাকসু নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সসহ ৬ দফা দাবি ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), সিনেট ও হল সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল।
বুধবার দুপুরে ছাত্রদল মনোনীত রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন আবীর এসব দাবিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার, ভুয়া ও জাল ভোট প্রতিরোধে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন, ডিজিটাল কারচুপি ও ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ ঠেকাতে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা, ভোট চলাকালে বৈধ কার্ডধারী ছাড়া অন্য কারও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, নির্বাচনে অবৈধ অর্থের প্রভাব প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আচরণবিধি সবার জন্য সমানভাবে পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন করা।
দাবি প্রসঙ্গে রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনের দিন সাধারণ ভোটার ও নির্বাচন কমিশনের পাস ছাড়া কেউ যেন কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না পারেন, তা আমরা বাস্তবায়ন করব। এ ছাড়া নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহারের প্রস্তুতি চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।’ তফসিল অনুযায়ী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিন ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা করা হবে।
এদিকে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচন। এ নির্বাচনে নারী ভোটারের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশের বেশি হলেও রাকসুতে নারী প্রার্থী মাত্র ২৫ জন। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন; যা মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। কিন্তু প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ হার একেবারেই কম। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৩টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ২৪৮ জন। এর মধ্যে মাত্র ২৫ জন নারী, যা মোট প্রার্থীর ১০ শতাংশ। এর মধ্যে ১৪ জনই সংরক্ষিত পদের প্রতিদ্বন্দ্বী। সংরক্ষিত পদ বাদ দিলে নারী প্রার্থীর হার নেমে আসে মাত্র ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশে।
শীর্ষ পদগুলোতে নারী প্রার্থীর উপস্থিতিও সামান্য। সহসভাপতি (ভিপি) পদে মাত্র ১, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৪ এবং সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ২ জন প্রার্থী রয়েছেন। এ ছাড়া ক্রীড়া ও খেলাধুলা সম্পাদক পদে ১, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সহকারী সম্পাদক পদে ২, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক (সংরক্ষিত) পদে ৬, মহিলাবিষয়ক সহকারী সম্পাদক (সংরক্ষিত) পদে ৮ ও নির্বাহী সদস্যপদে ১ জন প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে ৫৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ৮ জন, যা ১৩.৭ শতাংশ।
এবারের নির্বাচনে হল সংসদে ২৫৫টি পদের মধ্যে ছাত্রীদের ৬টি হলে ৯০টি এবং ছাত্রদের ১১টি হলে ১৬৫টি পদ রয়েছে। মেয়েদের ৯০টি পদের জন্য লড়ছেন ১৩৯ জন; এর মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন ৩৯ জন। আর ছাত্র হলে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না তিনজনের। নারীদের উপস্থিতির বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নারী শিক্ষার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ দিয়েছি। তবে তারা না আসতে চাইলে কিছু করার নেই।’
ফোকলোর বিভাগের অধ্যাপক সুস্মিতা চক্রবর্তী বলেন, নারীরা সাইবার বুলিংয়ের কারণে পিছু হটছেন, এতে যোগ্য নেত্রী হারাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। সমস্যা চিহ্নিত করে প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, সাইবার বুলিং সত্যিই অ্যালার্মিং ইস্যু। প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদেরও সচেতন হতে হবে এবং হেনস্তাকারীদের সামাজিকভাবে বর্জন করতে হবে।


প্রকাশিত: September 18, 2025 | সময়: 4:12 am | সুমন শেখ