, , ।
লালপুর প্রতিনিধি: বন্যার পানি নামতে না নামতেই পদ্মা নদীতে আবারো পানি বাড়ছে। ফলে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বন্যার কারণে নাটোরের লালপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বাথান বাড়িতে পালন করা প্রায় ৫ হাজার গবাদিপশু নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে উঠে আসা খামারিরা বিপাকে পড়েছেন। এক দিকে গবাদিপশু রাখার জায়গার অভাব অন্য দিকে চরম খাদ্য সংকট। এতে গবাদিপশু আক্রান্ত হচ্ছে খুরা রোগ ও ডায়রিয়ায়।
বিলমাড়ীয়া বাজার সংলগ্ন খেয়া ঘাটের মাঝি ও স্থানীয় লোকজন জানালেন, গত ২-৩ দিনে ২ ফুটের ওপরে পানি বেড়েছে। খামারিরা বলছেন, পানি বাড়ার কারণে, গরু-মহিষ নিয়ে বাথানে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর থেকে জানাগেছে, লালপুর, বিলমাড়ীয়া ও দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পদ্মানদীর চরাঞ্চলের বাথানে প্রায় ৪ হাজার মহিষ ও ৩ হাজারের বেশী গরু পালন হয়ে থাকে। সম্প্রতি বন্যায় সে সব গরু-মহিষ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে খামারিরা। পর্যাপ্ত রাখার জায়গা ও চারণ ভূমি না থাকায় খাদ্য সংকট ও গবাদি পশুর রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে।
খামারি এজাজুল, হামিদুল, রহিম মন্ডল জানালেন, চরে পানি উঠায় মহিষের পাল নিয়ে উঠে এসেছি কিন্তু মহিষ গুলোকে ঠিকমত খেতে দিতে পারছি না। কোথাও চরানোর জায়গা নেই। ঘাস ও আওড়ের (ধানের খড়) দাম বেশী হওয়ায় কিনেও খাওয়াতে পারছিনা। নদীতে আবার পানি বাড়ায় চরের বাথানে ফেরাও অনিশ্চত হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটের কথা নিশ্চিত করে বলেন, বন্যার কারণে পদ্মা নদীর চর থেকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নেয়া খামারিদেরকে পশু খাদ্য দেওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। গরু মাহিষের ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ এর মাত্রা কমেছে কিন্তু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান ও খাদ্য সংকটের কারণে গরু-মহিষের খুরা রোগ ও ডায়রিয়া দেখা দিয়েছে। গবাদিপশুকে পরিস্কার পানি ও ডায়রিয়া আক্রান্তদের পর্যাপ্ত স্যালাইন খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, চরাঞ্চলে গরু-মহিষের খাবার উপযোগী ঘাসপাতা হতে এখনো প্রায় ২ মাস সময় লাগবে।