, , ।
স্টাফ রিপোর্টার,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীতে অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার করে মাছ ধরছে জেলেরা। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্ত-সহ স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই নজরদারী।তবে বাঘার হাটে বৃহস্পতিবার(২৮ আগষ্ট)ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দু’জন ব্যবসায়ীর জরিমানা-সহ প্রায় দুই লক্ষ টাকার জাল ধবংস করে আলোচনায় এসছেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। তাদের দাবি, শুধু হাটে জাল পুড়ালে চলবে না। নদীতেও অভিযান দিতে হবে। কিন্ত বর্তমান মৎস্য কর্মকর্তাকে আমরা কখনোই নদীতে দেখতে পাইনা । লোকজন আক্ষেপ করে বলেন, বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা জাল গুলো পুড়ানোর পর জরিমানা না করলেও চলতো। তাতেও সমস্য নেই। যদি নদীতে জাল ধবংস অভিযান অব্যাহত দেখতে পেতাম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) সকাল ১০ টায় উপজেলার বাঘা হাটে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মি আক্তার। এ অভিযানে ১৫০ পিচ কারেন্ট জাল ও ১০ পিচ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করে সেটি আগুনে পুড়িয়ে ধবংস করা হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ লক্ষ টাকা। একই সাথে দুই ব্যবসায়ীকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করেন তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় লোকজন। তারা বলেন, জাল পুড়ানোর পর জরিমানা না করলেও হতো। তাদের অভিযোগ, যে জাল পুড়ানো হলো, সেই একই জাল দিয়েই নদীতে অবাধে মাছ ধরছেন কতিপয় জেলে। তারা সরকারী নানা অনুদান পাওয়ার পরেও সকল নির্দেশ উপেক্ষা করে বাঘার পদ্মায় অবৈধ জাল ব্যবহার করে ইলিশ সহ হরেক রকম প্রজাতির মাছ ধরছেন।অথচ সেখানে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কোন অভিযান আমরা কখনোই লক্ষ্য করছি না।
বাঘার হাটে চলমান অভিযানে উপস্থিতি ছিলেন, উপজেলা ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তহুরা হক এবং ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সহকারী কর্মকর্তা শাহরিন আক্তার ইভা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার জানান , পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালসমূহ জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই ধরনের অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল মাছের ডিম, পোনা ও ছোট মাছ নিধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে, যা আমাদের প্রাকৃতিক মাছের উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে নদীতে মাছ ধরা প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য অফিসার তহুরা হক বলেন, যে কোন মাছ ধরার ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে কারেন্ট জাল এবং দুয়ারী জাল নিষিদ্ধ। দাপ্তরিক কাজ ফেলে তো আর প্রতিনিয়ত নদীতে অভিযান করা সম্ভব নয়। তবে আমরা গত মাসে অভিযান করে জাল ধবংস করেছি । প্রয়োজনে আবারও করবো।
নুরুজ্জামান /শামি