সর্বশেষ সংবাদ :

উত্তরাঞ্চলের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

স্টাফ রিপোর্টার: বৈশ্বিক ও জাতীয় অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় এবং দেশের ব্যাংকিং খাতকে সব ধরনের অবৈধ অর্থায়ন থেকে সুরক্ষিত রাখতে এনসিসি ব্যাংক পিএলসি এক সময়োচিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, শনিবার রাজশাহী মহানগরীতে ব্যাংকের উত্তরাঞ্চলের কর্মকর্তাদের জন্য “মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ” শীর্ষক একটি দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। নগরীর এনসিসি ব্যাংক পিএলসি রাজশাহী শাখার কনফারেন্স হলে আয়োজিত এই কর্মশালায় ব্যাংকের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শাখার ৬২ জন নবীন ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন এনসিসি ব্যাংকের উপ-প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা এবং এএমএল অ্যান্ড সিএফটি বিভাগের প্রধান মো. বাকের হোসেন। ঝুঁকি মোকাবেলায় জ্ঞানের সঠিক প্রয়োগ জরুরি উল্লেখ্য করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন কেবল একটি দেশের অর্থনীতিকেই পঙ্গু করে না, এটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও এক গুরুতর হুমকি। ব্যাংকিং খাত এই অবৈধ অর্থের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই ব্যাংকারদেরকে সম্মুখসারির প্রহরী হিসেবে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”
তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর নির্দেশনাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫ সহ), সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০১২ এবং এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা অপরিহার্য। প্রশিক্ষণে আলোচিত গ্রাহক পরিচিতি যাচাই (কণঈ), লেনদেন পর্যবেক্ষণ (ঞৎধহংধপঃরড়হ গড়হরঃড়ৎরহম), সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (ঝঞজ) এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ প্রতিবেদন (ঝঅজ) তৈরির কৌশলগুলো শুধু জানলেই হবে না, দৈনন্দিন কার্যক্রমে এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আপনাদের এক একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ব্যাংক ও দেশ উভয়কেই বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।”
কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের উত্তরাঞ্চলের আঞ্চলিক প্রধান মো. ওমর শরীফ। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গ্রাহকের আস্থা অর্জনের উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “এনসিসি ব্যাংক তার গ্রাহকদের একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সর্বদা বদ্ধপরিকর। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের পরিপূর্ণ পরিপালন নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও এআই ব্যবহারের উপর প্রশিক্ষণের গুরুত্ব আহ্বান করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের সামগ্রিক কমপ্লায়েন্স কাঠামো যেমন শক্তিশালী হচ্ছে, তেমনই গ্রাহকদের আস্থাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।”
কর্মশালার সভাপতি ও এনসিসি ব্যাংক পিএলসি, রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল্লাহ আল আমিন কর্মশালা আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “রাজশাহী অঞ্চল এখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে এখানে আর্থিক ঝুঁকিও বাড়ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমাদের কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করাই এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য, যেন তারা যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন।”
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাগণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বগুড়া শাখা থেকে আগত একজন কর্মকর্তা বলেন, “প্রশিক্ষণটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল। বিশেষ করে ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তকরণের কৌশলগুলো সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানতে পেরেছি, যা আমাদের কর্মক্ষেত্রে অনেক কাজে দেবে।”
কর্মশালায় পাবনা শাখার এসএভিপি কামরুজ্জামান কামরুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাখার এসএভিপি অভিজিৎ রায়, বগুড়া শাখার এফএভিপি আবু জাকারিয়া খান, নওগাঁ শাখার এফএভিপি বাদশা আলমঙ্গীর ও বানেশ্বর শাখার এফএভিপিশফিউল আলমসহ রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বানেশ্বর, বগুড়া, নওগাঁ এবং পাবনা শাখার নবীন-প্রবীন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন করা হয় এবং তাদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের আর্থিকখাতকে নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


প্রকাশিত: July 27, 2025 | সময়: 6:00 am | সুমন শেখ