, , ।
সানশাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দল একক প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে এক প্রকার সমঝোতার পথে হাঁটছে। যদিও দলগুলো এখনই এটিকে ‘জোট’ বলতে নারাজ, তবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ নিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ অন্তত পাঁচটি কওমি ঘরানার দল ইতিমধ্যে এক ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ গঠন করেছে। লক্ষ্য- ইসলামপন্থীদের ভোট একত্রিত করে বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের তুলে ধরা।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘মানুষ এখন একটি নতুন বিকল্প শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। সেই ভাবনা থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো কাছাকাছি আসছে। আমরা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নই, তবে ভালো ফলের জন্য সর্বোচ্চ কৌশল নিতে হবে।’ সংশ্লিষ্ট দলগুলো বলছে, এই সমঝোতা এখনো আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী জোটে রূপ নেয়নি। প্রার্থী বাছাই, মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর জোট গঠনের বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে।
সংবিধান সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার বিষয়ে ইসলামপন্থী দলগুলো একটি সমন্বিত অবস্থান নিচ্ছে। তারা সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে। অন্যদিকে, বিএনপি উচ্চকক্ষ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইস্যুতে ভিন্নমত পোষণ করছে।
এমন অবস্থানগত পার্থক্য ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে নিজেদের বোঝাপড়া দৃঢ় করছে। এতে বিএনপি থেকে আলাদা হয়ে ইসলামি ধারার দলগুলোর নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুদৃঢ় করার কৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
গত শনিবার ঢাকায় ইসলামী আন্দোলনের ডাকা মহাসমাবেশে জামায়াত, এনসিপিসহ কয়েকটি ইসলামপন্থী দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও বিএনপির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। ইসলামী আন্দোলনের দাবি, তারা বিএনপির কাউকে আমন্ত্রণ জানায়নি। এই সমাবেশে অংশ নেওয়া দলগুলোর বক্তব্যে একটি সম্মিলিত নির্বাচনমুখী উদ্যোগের আভাস পাওয়া গেছে, যা ইসলামি দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে গঠিত সমঝোতা উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত মজলিসের অপর অংশ। গত ২৩ এপ্রিল এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা নিজেদের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতার কথা জানিয়েছিল।
এর আগে চরমোনাই পীরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের বৈঠকে ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার ব্যাপারে মতৈক্য হয়। পরে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ইসলামি দলগুলোর মধ্যে একটি ভোটবাক্সে ভোট দেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে ঐকমত্য তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের পক্ষে, তাদের নিয়েই একটি জোট গঠনের ভাবনা চলছে।’ এদিকে, বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি না থাকায় বিএনপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ছোট দলগুলো গুরুত্ব হারাতে পারে- এই আশঙ্কাও তাদের মধ্যে রয়েছে। সেই চিন্তা থেকে ও সংস্কার ইস্যুতে ভিন্ন অবস্থানের কারণে ইসলামপন্থী দলগুলো একটি বিকল্প মঞ্চ গড়তে আগ্রহী হয়ে উঠছে। নির্বাচনী মাঠে ইসলামি দলগুলোর এই সক্রিয়তা বিএনপির জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়- এই সমঝোতা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং তা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে।