, , ।
চাটমোহর প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, ১১ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ১টি করে ও পৌরসভার ১টি মোট ১২টি বিদ্যালয় নির্বাচন করা হয়েছে ও আদর্শ বিদ্যালয়ের মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলো হলো পৌর সদরের আফ্রাতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিলচলন ইউনিয়নের দোলং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হান্ডিয়াল ইউনিয়নের হান্ডিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাইকোলা ইউনিয়নের ছাইকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ফৈলজানা ইউনিয়নের ফৈলজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের বামনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিমাইচড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুনাইগাছা ইউনিয়নের পৈলানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুলগ্রাম ইউনিয়নের শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মথুরাপুর ইউনিয়নের ভাদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড হলো, স্কুল প্রাঙ্গণ, শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও সৌন্দর্য বর্ধনের ব্যবস্থা করা, স্কুলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী উপস্থিতি আবশ্যিক ভাবে ৯০% এর উপরে রাখতে হবে এবং ১০০% রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করা, যথাসময়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আগমন ও প্রস্থান নিশ্চিত করা, সকল শিক্ষার্থীর ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ নিশ্চিত করা ও শিক্ষকগণও ড্রেস কোড মেনে চলবে, প্রত্যেক শিক্ষার্থী শ্রেণির স্টান্ডার্ড অনুযায়ী শুদ্ধভাবে বাংলা ও ইংরেজি রিডিং, গণিতের সাধারণ নিয়ম, বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণের সাধারণ বিষয়গুলো জানবে, যথাসময়ে সিলেবাস প্রণয়ন ও স্কুলের সকল রেজিস্টার হালনাগাদ করা, হ্যান্ডনোট বা কন্টেন্ট তৈরি করা, সকল শিক্ষার্থী কমপক্ষে একটি সহশিক্ষায় যুক্ত থাকবে, শিশুদের জন্য বিদ্যালয় আনন্দঘন ও শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা, বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষা উপকরণ ও খেলার সামগ্রীর ব্যবস্থা করা, নিয়মিত অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা, ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করা এবং প্রত্যেক অধ্যায় শেষে টেস্ট বা কুইজের ব্যবস্থা করা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাল্টিমিডিয়া ও উপকরণের মাধ্যমে পাঠদানের চেষ্টা করা, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করার পরিকল্পনা ও ব্যবস্থা করা, নিয়মিত প্রাত্যহিক সমাবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিদিন সমাবেশ ও শ্রেণি কক্ষে ১০ মিনিট হেলথ টিপস, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সংক্রান্ত আলোচনা করা, শিশুদের নৈতিকতারা চর্চা নিশ্চিত করা এবং যদি সম্ভব হয় সততা স্টোর স্থাপনের মাধ্যমে সততার চর্চার ব্যবস্থা করা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেছেন, মানদণ্ডসমূহ পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিশীলনযোগ্য। নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের বিদ্যালয়গুলোকে আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আরও অনেক শিক্ষক আগ্রহ প্রকাশ করলেও আপাতত ১২টি নিয়ে আমরা কাজ শুরু করছি।
উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা বাড়ানো হবে। সফলতা নির্ভর করছে শিক্ষক ও অভিভাবক সহ আমাদের সকলের সদিচ্ছার উপর। শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়কে পুরস্কৃত করা হবে। তিনি এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।