, , ।
আসাদুজ্জামান মিঠু: অন্যসব বছরের চেয়ে এবার আষাঢ় একটু আগেই শুরু হয়েছে। জৈষ্ঠ মাসের শেষ সপ্তহের থেকে পুরো দমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আষাঢ়ের ১৫ দিন পেরিয়েছে। কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি পেয়ে আমন চাষে মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকেরা। রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের এখন আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
অন্যসব বছরের চেয়ে চলতি মৌসুমে আমন চাষে বাড়তি আগ্রহ আছে কৃষকের মধ্যে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর বোরো ধানে ভাল দাম পেয়েছেন। ফলনও ভাল গেছে। তাই এবার ধান চাষ করে কৃষকেরা লাভের মুখ দেখেছেন। শুধু ধানেই নয়,চলতি বছর মুসুর,সরিষা,আলুসহ অন্যসব রবিসশ্য বাজার বেশ চড়া ছিল শুরু থেকেই। এতে খুশি কৃষক।
রাজশাহীসহ বরেন্দ্র অঞ্চলে চলতি মৌসুমে জৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে আমন চাষে প্রস্ততি শুরু করেছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। আষাঢ় মাস শুরুর আগেই বৃষ্টি হতে শুরু হয়েছে এ অঞ্চলে। আষাঢ়ের প্রথম সপ্তহ থেকেই বীজতলা থেকে চারা তুলে আমন রোপন শুরু করেছেন কৃষকেরা। পুরোদমে মাঠে মাঠে আমন রোপন শুরু হয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আমনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে। তবে,লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি আমন আবাদ হবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন।
এজন্য জেলায় এবার বীজতলা হয়েছে ৩ হাজার ৬৬৭ হেক্টর জমিতে। এছাড়াও রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আমন চাষাবাদ হবে আরো ৩ লাখ ৫০ হাজার হেক্টরের উপরে। এই জন্য এ অঞ্চলে বীজতলা হয়েছে ১৮ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলা মুন্ডুমালা পৌরসভার পাঁচন্দর গ্রামের কৃষক মনসুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে ৯ বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ করবেন। এই জন্য গত এক মাস আগে বাড়ির পার্শে ৫ শতক জমিতে সাদা স্বর্না জাতের বীজতলায় বীজ বোপন করেছেন। আষাঢ়ের ১৫ দিনের মাথায় মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে আমন রোপন শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
গোদাগাড়ী উপজেলার সগুণা গ্রামের কৃষক বিনয় বর্মন বলেন, আমন চাষে সেচ খরচ লাগে না। সার খরচও কম। বর্ষার পানির উপর নির্ভর করে উচুঁ নিচু সকল জমিতে আমন চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এ বছর অগ্রিম অতিরিক্ত বৃষ্টি তাই দেরি না করে আমন চাষে নেমে পড়েছেন তারা।
শুধু এ দুইজনই কৃষক নয়,আষাঢের ভারি বর্ষনে রাজশাহী অঞ্চলের, রাজশাহী, নাটোর,নওগাঁ ও চাপাইনাবাবগঞ্জ জেলা সহ পুরো বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষক আমন রোপনে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলে বেশ উঁচুনিচু জমি আছে যা সেচ সুবিধা পায় না। শুধু আমন মৌসুমে বর্ষার পানির উপর নির্ভর এ অঞ্চলে প্রায় ৯৫ ভাগ জমি চাষাবাদ হয়ে থাকে। আষাঢ়ের শুরুতেই বৃষ্টি পেয়ে আমন রোপন শুরু করেছেন কৃষকেরা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও চলতি বছর বেশি আমন চাষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।