, , ।
সাখাওয়াত হোসেন বিপু, জয়পুরহাট: প্রাণীর চামড়াকে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা। চামড়া সংগ্রহ, তা প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্য যেমন জুতা, ব্যাগ, বেল্ট, জ্যাকেট এবং অন্যান্য চামড়াসামগ্রী তৈরি করা হয়। কাঁচা চামড়ার জোগানের অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির মৌসুমে। একটা হিসাবে দেশে প্রতি বছর গড়ে বিভিন্ন পশুর এক কোটি ৭০ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়। তাই কোরবানীর সময় চামড়া সংরক্ষন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ গুরুত্ব অনেক।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন ও পশুর চামড়া সংরক্ষন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে এক সভা জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আফরোজা আক্তার চৌধুরী।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) আরিফ হোসেন, জয়পুরহাট পৌরসভার প্রশাসক মোহাঃ সবুর আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সহকারি কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মাহবুব প্রমুখ।সভায় আসন্ন ঈদুল আযহা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পালনের জন্য প্রশাসনসহ সকলকে সর্তক থাকার জন্য সিদ্ধান্ত হয়।
এ জেলায় ৩১টি স্থানে ঈদুল আযহার পশুর হাটে পশু পরীক্ষা করার জন্য পশু ক্লিনিক, জাল টাকা সনাক্তকরণে বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ স্থাপন, পশু ক্রয়ের হাসিল বেশী না নেওয়াসহ প্রতিটি হাটে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া জেলার ৩৮টি স্থানে পবিত্র ঈদের জামায়াত সুষ্টুভাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়। পবিত্র ঈদে পশুর চামড়া সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষন করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো হয়।
এবারের ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের ৩০২টি হাটে কেনাবেচা হবে কোরবানীর পশু। বৃহস্পতিবার এক রাজশাহী আঞ্চলিক তথ্য অফিসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিভাগের এসব হাটের মধ্যে ১৬১টি স্থায়ী এবং ১৪১টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য মতে, হাটগুলো মেডিকেল টিম দ্বারা তত্ত্বাবধান করা হবে। বিভাগের প্রতিটি জেলায় পশু কেনাবেচার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটসমূহে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ও গাভীর গর্ভ পরীক্ষা করতে ২১৩টি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দফতরটি। এবছর রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪৩ লাখ ৪৪ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত করেছেন কৃষক ও খামারীরা।
এদিকে, রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আতোয়ার রহমান জানিয়েছেন, রাজশাহী জেলায় এবার কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪৩৭টি। আর জেলায় এ বছর কোরবানির জন্য ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯৩টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এবার রাজশাহী জেলায় কোরবানীযোগ্য গরু রয়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৭৪২টি, মহিষ ৪ হাজার ২৪০টি, ছাগল ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬৩টি এবং ভেড়া রয়েছে ৩০ হাজার ১৪৮টি। রাজশাহীর বিভিন্ন খামার ও বাড়িতে এসব গরু, ছাগল ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে। এ অঞ্চলের পশুহাট ছাড়াও খামার থেকে এসব পশু কেনাবেচা হবে।
ইপিবি (এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো)-এর তথ্য মতে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১২৩ কোটি ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১০১ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলার- যা বিগত বছরের তুলনায় ২১ দশমকি ৭০ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে আয় ৯৪ কোটি ১৭ লাখ ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ১২৪ কোটি ৫২ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় ১২২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার।