, , ।
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারার গণিপুরে শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বঞ্চিত কৃষকেরা ইউপি ভবন ঘেরাও এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচি থেকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও গণিপুর ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
তবে চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বিএনপির উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিরাও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৩ জনকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার তালিকাভূক্ত কৃষকদের মধ্যে এই চাল বিতরণ করেন। গত ১ মে শিলাবৃষ্টিতে গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর, মোহনগঞ্জ, নামাজগ্রাম, আচিনঘাট, গঙ্গানারায়ণপুর এলাকার পানবরজসহ ফসলের ব্যাপক হয়।
শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক কৃষক হাসনিপুরে অবস্থিত গণিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গত সোমবার সকালে জড়ো হন। তাঁরা পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেন। এসময় চেয়ারম্যান ও পরিষদের সদস্যরা ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে কয়েকজন সদস্য আন্দোলনকারীদের সামনে আসলে তোপের মুখে পড়েন। এক পর্যায়ে তালিকা বঞ্চিত কৃষকরা বাইরে এসে পরিষদের সামনে সইপাড়া-ভবানীগঞ্জ সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১ পর্যন্ত ঘণ্টাখানেক মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন বিএনপির নেতা শামসুজ্জোহা বাদশা, গোলাম মুর্তজা, আবদুল জব্বার খাঁ, জাকিরুল ইসলাম, দুলাল হোসেন প্রমুখ।
তাঁরা তালিকা তৈরিতে চেয়ারম্যানের স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনেন। পাশাপাশি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানের বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেন।
কৃষকের অভিযোগ চেয়ারম্যান তালিকা তৈরিতে স্বজনপ্রীতি করেছেন। তাঁর অনুগত লোকদের নাম ত্রাণের তালিকাভূক্ত করেছেন। হাসনিপুর গ্রামের আনছার আলী, নামাজগ্রামের সাজ্জাদ হোসেন, গঙ্গানারায়নপুর গ্রামের আবদুল হালিম মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, ‘শিলাবৃষ্টিতে পান বরজের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন পথে বসেছি, অথচ আমারই নাম তালিকায় নেই। এক কেজি চালও পায়নি। চেয়ারম্যান আমাদের নাম দেননি, তাঁর কাছের লোকজনের নাম দিয়েছেন।’
তাঁরা এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তালিকা কৃষি অফিস থেকে করা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুতে তাঁর বা পরিষদের কোনো হাত ছিল না। তবে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় তালিকা করা হয়েছে। পরে কাটছাঁটের বিষয় জানেন না।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৪৯১ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক ভাবে ১০ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তালিকা পুনরায় যাছাই বাছাই করে ৩৩৩ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।