, , ।
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর দুর্গাপুরে পরকীয়া সম্পর্ক ও গ্রামীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত চাঞ্চল্যেকর মকবুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. আলামিন হোসেনসহ ৫জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫। আজ রোববার (১১মে) ভোর ৪টায় কক্সবাজারের সুগন্ধা লাইট হাউজপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. আলামিন হোসেন (৩৫), পিতা মৃত আজাহার আলী, শহিদুল ইসলাম (২৫), পিতা আরফান আলী,মো. শাহাবুর (৩০), পিতা মৃত আজির উদ্দিন,মোহাম্মদ রিপন (২৫), পিতা খবির উদ্দিন,মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বাটুল (২৫), পিতা মো. মেহের আলী। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আমগ্রাম ও তরিপতপুর গ্রামে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দুরুল হোদা। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের পর থেকেই তারা পলাতক ছিলেন। র্যাব-৫ এর একটি চৌকস দল আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে রোববার ভোর রাতে কক্সবাজারের সুগন্ধা লাইট হাউজপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাদের দুর্গাপুর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে দুর্গাপুর উপজেলার আমগ্রামে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। এরআগে মামলা তুলে নিতে আসামিরা স্যোশাল মিডিয়ায় ও তাদের আত্নীয়স্বজন নিহত মকুবল হোসেনের পরিবারকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল। এসব ঘটনায় আমগ্রাম এলাকায় আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার দিন জেলা বিএনপির আহব্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ নিহত মকুবলের জানাযায় অংশ নিয়ে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল, পরকীয়া সম্পর্কের জেরে মৌ (৩০) নামের এক নারী উপজেলার আমগ্রাম এলাকার ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ ঘটনা নিয়ে গ্রামে সালিশ বসানো হলে আসামিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরদিন রাতে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আসামিরা আমগ্রাম এলাকার আমচত্তর মোড়ে দেশীয় অস্ত্রসহ অতর্কিত হামলা চালান। মকবুল হোসেন তাদের বাধা দিতে গেলে তার মাথায় আঘাত করা হয়, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সানশাইন /শামি