, , ।
নুরুজ্জামান,বাঘা :
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলস্টেশন হয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন রুটে ২৪টি ট্রেন যাতায়াত করে।অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ স্টেশন হওয়া সত্বেও এখানে মাত্র একটি প্লটফর্ম হওয়ায় ট্রেন ক্রসিং এর সময় প্ল্যাটফর্মের বাইরে দুই নম্বর লাইনে আন্ত:নগর (দ্রতগামী) ঢালারচর, কমিউটার ও ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন তিনটি থামানো হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ওই ট্রেন গুলোর যাত্রীদের ওঠানামা করতে হচ্ছে প্রতিদিন। স্থানীয় লোকজনের দাবি, এই স্টেশনে আরো একটি প্লাটফর্ম তৈরী করা হউক।
ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকালে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী শামসুল হক। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা। তাঁর সঙ্গে আড়ানী স্টেশনে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১১ টায় ধুমকেতু ট্রেনটি যখন আড়ানীতে প্রবেশ করলো তখন দেখি প্লাটফর্ম ঘেষে একটি লোকাল ট্রেন দাড়িয়ে আছে। সঙ্গতকারনে ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে দুই নম্বর লাইনে এসে থামতে হলো ।
এরপর আমি সহ এই স্টেশানের যাত্রীরা প্রায় চার ফুট উঁচু সিঁড়ি বেয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে নিচে নামছি। আবার যারা এই স্টেশন থেকে রাজশাহী যাবেন তারাও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ট্রেনে উঠছেন। এর ফলে একদিকে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরা ট্রেনে ওঠা-নামা করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। অপর দিকে অসুস্থ যাত্রীর জন্য এভাবে ট্রেনে ওঠা খুবই কষ্টকর হচ্ছে । তাঁর মতে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যদি ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করায়, তাহলে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে ট্রেনে উঠা নামা করতে পারেন। আর যদি সেটি কোন করনে সম্ভব না হয়, তাহলে এখানে আরো একটি প্লাটফর্ম স্থাপনের কোন বিকল্প নেই।
আড়ানী রেল স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এই স্টেশনের উপর দিয়ে প্রতিদিন, ঢাকা,খুলনা, পার্বতীপুর, নাটোর, ঈশ্বরদী ও পাবনা সহ দেশের বিভিন্ন রুটের ২৪ টি ট্রেন যাতায়াত করে। এর মধ্যে ঢালারচর,কমিউটার ও ধুমকেতু নামক তিনটি আন্তনগর এক্সপ্রেস ট্রেন এখানে থামে । এর একটি ঢাকা-রাজশাহী , অপরটি চাঁপাই-রাজশাহী হয়ে পাবনা এবং অন্যটি চাঁপাই থেকে ঈশ্বরদী রুটে চলাচল করে। এই তিনটি ট্রেনকে অধিকাংশ সময় দাঁড় করাতে হয় প্ল্যাটফর্ম নেই এমন লাইনে। এর কারণ হিসাবে রেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, ফাঁকা রেলপথে ট্রেন দাঁড় করালে সহজে রেলকর্মীরা ট্রেনটির বগি (চাকার) নিচে ঢুকে যান্ত্রিক সমস্যা সমাধান করতে পারেন।
আর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন দাঁড় করালে রেলকর্মীদের ট্রেনের বগির নিচে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে প্রতিনিয়ত দেখা গেছে, সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ধুমকেতু আড়ানী স্টেশনে প্রবেশের পূর্বে এখানে রাজশাহী থেকে একটি লোকাল ট্রেন এক নম্বর লাইনে এসে দাড়িয়ে আছে। একই অবস্থা লক্ষনীয় চাঁপাই-রাজশাহী হয়ে পাবনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঢালারচর ও রাজশাহী-ঈশ্বরদীগামী কমিউটার আন্ত:নগর টেনের বেলায়। এতে করে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ সকল ট্রেনের যাত্রীরা।
সার্বিক বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, আড়ানী রেলস্ট্রেশনে আন্তনগর ট্রেনে উঠা-নামাকে কেন্দ্র করে গত একমাসে তিনজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। এর মধ্যে বুলু বেগম নামে এক যাত্রী পা কাটা পড়েছে। তাঁর মতে, এই স্টেশনের দক্ষিন পাশে একটি প্লাটফর্ম করা খুবই জরুরী। তিনি এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।
আড়ানী স্টেশনমাস্টার মোশারফ হোসেন বলেন, আমি যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করছি। এখানে একটি প্লাটফর্ম খুবই প্রয়োজন। আমি এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবগত করেছি।
সানশাইন নুরুজ্জামান/শামি