সর্বশেষ সংবাদ :

রাজশাহীতে স্থাপিত হচ্ছে ডিএনএ ল্যাব

স্টাফ রিপোর্টার: নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার দ্রুত ও কার্যকর করতে সরকার রাজশাহীতে একটি ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের মামলার বিচার দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ দেশে পর্যাপ্ত ডিএনএ ল্যাবরেটরি না থাকা। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুটি নতুন ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করা হবে।
উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, সোমবার (১৭ মার্চ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ সভায় নতুন দুটি ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে রাজশাহীতে ধর্ষণের মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও, ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন যথাসময়ে না আসায় বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ২৫৬টি ধর্ষণ মামলা, ২০২১ সালে ২৩০টি, ২০২২ সালে ২৭২টি, ২০২৩ সালে ২০৫টি, ২০২৪ সালে ২৬১টি এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৪টি মামলার নমুনা ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরিতে শুধু নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তবে ডিএনএ প্রোফাইলিং হয় ঢাকায়। ধর্ষণের একটি মামলায় অনেকগুলো নমুনা থাকায় পরীক্ষায় সময় বেশি লাগে। ঢাকা থেকে প্রতিবেদন আসতে দেরি হলে আমরা যথাসময়ে তা হস্তান্তর করতে পারি না।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে এক বছর থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। রাজশাহীতে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন হলে পরীক্ষার সময় ও অনেক কম লাগবে এবং বিচার কাজ ও ত্বরান্বিত হবে। বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার কারণে ভুক্তভোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এক ধর্ষণ মামলার ভুক্তভোগীর মা জানান, আমরা দুই বছর ধরে ছুটছি, কিন্তু এখনো মামলার সুরাহা হয়নি। শুনেছি ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট দেরিতে আসে, তাই বিচার পেতে দেরি হচ্ছে। এত কষ্টের পরও যদি ন্যায়বিচার না পাই, তাহলে আমরা যাব কোথায়?
স্থানীয় একজন বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের মামলাগুলোতে যদি দ্রুত বিচার করা না হয়, তাহলে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে। রাজশাহীতে ডিএনএ ল্যাব হলে অন্তত মামলা নিষ্পত্তিতে সময় কম লাগবে।
রাজশাহী সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি আহমেদ শফিউদ্দিন জানান, ধর্ষণ মামলায় ডিএনএ রিপোর্টের গুরুত্ব অনেক বেশি। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাগুলো ঝুলে থাকে, অনেক সময় সাক্ষীরা পিছিয়ে যায়। তাই রাজশাহীতে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন হলে বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই দ্রুত হবে। নতুন ডিএনএ ল্যাব চালু হলে রাজশাহীর মামলার নমুনা আর ঢাকায় পাঠাতে হবে না, ফলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমবে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এতে ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার বিচার দ্রুততর হবে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পাবেন।


প্রকাশিত: March 18, 2025 | সময়: 4:05 am | সুমন শেখ