, , ।
মাহফুজুর রহমান প্রিন্স, বাগমারা: কে বলবে নিধির শীলের বয়স ষাটের কাছাকাছি। তার চেহারায় পড়েনি বয়সের ছাপ। কঠোর পরিশ্রমী এই মানুষটি জীবনের চল্লিশ বছর ধরে হাটে হাটে ঘুরে চুল-দাড়ি কেটে সাত সদস্যের সংসারের ঘানি টেনে চলেছেন। দূর্গাপুর উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা নিধির শীল পৈত্রিক ভাবেই এই পেশায় জড়িত। তার বাপ দাদাও এই নাপিত পেশায় জড়িত ছিলেন।
১২ বছর বয়স থেকেই ক্ষুর কেচি তুলে নেন হাতে। সেই অবধি চলছে তো চলছে। চোখের নিমিষেই চল্লিশ বছর পার। মাত্র আটআনায় চুল-দাঁড়ি কাটার কথা মনে আছে নিধিরের। এখন তিনি দাঁড়ি কাটেন বিশ টাকায় আর চুল দাঁড়ি একসাথে হলে ৪০-৫০ টাকা।
নিধির বলেন, এখন আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেলুনে বসে মানুষ আরাম আয়েশ করে চুল-দাড়ি কাটাতে অভ্যস্ত হলেও ফুটপাতে তাদের কাস্টমারের কোন কমতি নেই। আটআনা দরের চুল-দাঁড়ি কাটা নিধির এখন হাটে হাটে দোকান খুলে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় করে থাকেন। এই স্বল্প আয়ে তার সংসার চলে যায় আনায়েসেই। দুই ছেলে-মেয়ের বিয়ে ও একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন এই আয় থেকে। তার আর বিশেষ চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। জীবনের শেষ অবধি এই পেশাই আঁকড়ে ধরে থাকতে চান।