, , ।
পুঠিয়া প্রতিনিধি :
রাজশাহী পুঠিয়ার সিঙ্গার শো-রুম থেকে ৫০ হাজার চাঁদাদাবিতে স্থানীয় তিন যুবকের নামে অভিযোগ উঠেছে। শোরুম ম্যানেজার মানিরুল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শোরুমে প্রবেশ করে পিস্তলের মুখে জিম্মি করে নগত ৬৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে সাংবাদিকদের জানায় শোরুম ম্যানেজার। উক্ত ঘটনায় পুঠিয়া থানায় ২২ জুলাই তারিখে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান। মামলা নং -১২/২৪ পুঠিয়া থানা। প্রকাশ্য এই দুর্ধর্ষ লুটপাটের ঘটনা ঘটে ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০ টার সময়।
উক্ত ঘটনার পর জিউপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের প্রবীন নেতা ও জিউপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগ এর সাবেক (সভাপতি) মো: শাহাজাহান আলীর ছেলে শো-রুমের ম্যানেজার মানিরুল ইসলাম মনিরুল (৪৮) বাদি হয়ে ২০ জুলাই শনিবার পুঠিয়া থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
আ.লীগ দলীয় সুত্রে জানা যায়,ভুক্তভোগী মানিরুল ইসলাম মনিরুলের পিতা শাহাজাহান একটানা ৩০ বছরের বেশি সময় জিউপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ছিল এবং বেশ কয়েকবার জামায়াত বিএনপির নির্যাতনের শিকার হন তিনি। প্রবীন সেই আ.লীগ পরিবারের সাথে এমন নিকৃষ্ট ঘটনার কারণে ক্ষমতাসীল আ.লীগের অনেক নেতা-কর্মীদের মধ্য চাপা-ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এবং এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বলে নেতা-কর্মীরা সাংবাদিকদের জানায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মানিরুল ইসলাম মনিরুল অভিযোগ করে বলেন, এরা মাঝে মধ্যে এসে ২ হাজার ৫ হাজার করে চাঁদা নিয়ে যায়। আমার বাড়ি জিউপাড়া ইউনিয়নে, আমি পুঠিয়াতে দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সহিত ব্যাবসা করে আসছি। আসামিরা পুঠিয়ার চিহ্নিত চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী ও ক্ষমতাশীল হওয়ায় তাদের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাইনি। চাঁদার টাকা না দিলে পুঠিয়াতে আমাকে ব্যাবসা করতে দিবেনা বলে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে টাকা নিয়ে যেত তারা। গত ১৫ জুলাই দোকানে এসে নয়ন বলে উপজেলা চেয়ারম্যান এর ব্যাক্তিগত অফিস ও বাড়ির জন্য ২টি (এসি) লাগবে। রেডি করে রাখিস পরে এসে নিয়ে যাবো।
এরপর ১৮ জুলাই সন্ধ্যা বেলা উজ্জ্বল আর বাবু দুইটি (এসি) চাইলে আমি দিতে রাজি হইনি। তারা দু’জনে তখন আমাকে গালিগালাজ করে এবং নয়ন কে ডেকে এনে নাকি আমাকে পুঠিয়া ছাড়া করবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। পরে রাত ১০ টার সময় আমি দোকান বন্ধ করার ঠিক পূর্ব মুহুর্তে নয়ন তার দলবল নিয়ে আমার শোরুমে প্রবেশ করেই নয়ন আমার মাথায় পিস্তল ঠেকায় এবং মারধর করে। আমি ফ্লোরে
পড়ে গেলে আমার বাম পকেটে থাকা নগত ৬৫ হাজার উজ্জ্বল জোর করে ছিনিয়ে নেয়ে চলে যায়। আইনের প্রতি আস্থা রেখে, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ২০ জুলাই পুঠিয়া থানায় অভিযোগ করি।
অভিযোগের তদন্তকারি কর্মকর্তা ও ঘটনার পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল জানায়, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। থানায় মামলা রেকর্ড করাও হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান।
উক্ত আসামিরা হলো, পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত (বিজিবি) সদস্য মৃত মোফাজ্জলের ছেলে ও মো: গোলাম আজম নয়ন (৪০) পার্শ্ববর্তী গ্রাম গন্ডগোহালির বিএনপি-জামায়াত ও জিএমবির বিভিন্ন পদ ধারি পরিবারের সন্তান বিএনপি নেতা মো দুদু আলীর ছেলে এবং নিজ কন্যা প্রান্তী হত্যা মামলার আসামী বাবু (৩৫) এবং চকপলাশী গ্রামের মৃত আছের আলীর ছেলে মো উজ্জ্বল (৩০) সহ অজ্ঞাত কয়েকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ি বলেন, এরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজ। এদের নির্দিষ্ট কোন কর্ম না থাকায় যখন যে দলের ক্ষমতায় আসে এরা তার কর্মী-সমর্থক হয়ে কাজ করে। এদের নেই দলীয় কোন পদ-পদবী কিন্তু রয়েছে পুঠিয়া আ.লীগ অফিসের পশ্চিম পাসে বিলাসবহুল চেম্বার বা পার্টি অফিস। আবার লোকমুখে শুনছি চেম্বারটি নাকি অপরাধীদের আতুর ঘর। এরা সুবিধাবাদী ও নৌকা বিরোধী। পুঠিয়া পৌর নির্বাচনে নৌকা-মার্কাকে নয়ন পরাজিত করেছে।
এদের বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা আ.লীগের সদস্য এবং পুঠিয়া পৌরসভার (সাবেক) নৌকার-মার্কার মেয়র রবিউল ইসলাম রবি সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করলে তিনি নয়নের বিরুদ্ধে আকাশ সমান অভিযোগের বর্ননা দিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেষ হাসিনার নৌকা প্রতীক নিয়ে আমি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হই। তবে ২০২০ সালে দ্বিতীয় পৌর নির্বাচনে প্রিয় নেত্রী পুনরায় আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়ে নির্বাচনের সুযোগ করে দেয়। সে সময় পুঠিয়া-দুর্গাপুরে সংসদ সদস্য ছিল প্রফেসর ডাক্তার মুনসুর রহমান এমপি। তারা আমার ওপরে অভিযোগ আনে আমি নাকি সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা এমপির অনুসারী। সে সময় দুই সংসদ সদস্যের মধ্যে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে তারা ছিল দুই-ভাগে বিভক্ত। তাই কিছুতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দারার অনুসারিকে বিজয়ী হতে দেওয়া যাবেনা।
তাই প্রতিহিংসা এমপি ক্ষমতার বলে গোপনে নয়নকে প্রার্থী করে। তখন নয়ন একমাত্র নৌকা প্রতীক কে পরাজিত করার লক্ষে্য মনসুর এমপির অনুসারি হিসেবে নৌকার বিরধিতা করে এবং নারিকেলগাছ প্রতীকে ভোট করে। অতঃপর আ.লীগ দুইভাগে ভাগ হওয়ার কারণে আমি নৌকা-মার্কা প্রতীক পেয়েও পরাজিত হই। সে করনে বর্তমান পুঠিয়া পৌর মেয়র জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং খালেদা জিয়ার অনুসারিরা দায়িত্ব পালন করছে।
নৌকার পরাজয়ের জন্য একমাত্র নয়নকে দ্বায়ি করে সাবেক মেয়র রবি আরো বলেন,আমি পুঠিয়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি। এখানে বারবার নয়ন গ্রুপ ব্যবসায়িদের বিভিন্ন ভাবে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। যদি এবার সঠিক বিচার না পাই তাহলে পুঠিয়ায় মানববন্ধন করা হবে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে নয়ন মুঠোফোনে বলে, বছর তিনেক আগে আমি মনিরুলের কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকায় কিস্তিতে একটি টিভি কিনেছিলাম। নগত ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। কিছুদিন পরে টিভি নষ্ট হয়ে গেলে আমি শোরুমে টিভি ফেরত দিয়ে আসি। তখন মরিরুল টাকা ফেরত দিবে বলে আস্থা দেয়। টাকা ফেরত চাইলে আজ-কাল করে দীর্ঘদিন থেকে আমাকে ঘুরাচ্ছে। যেদিন মামলার হয়েছে সেদিও আমি পাওনা টাকা চাইতেই গেছিলাম। এসি বিষয়ে জানতে চাইলে নয়ন বলে, আমি কোন (এসি) চাইনি আমি এসি দিয়ে কি করবো?
চাঁদাবাজির বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। অপরাধিরা পালাতক রয়েছে। মামলার সকল আসামিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এসব বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এড: আব্দুস সামাদ মোল্লার গণমাধ্যমকে বলেন, এগুলো বিষয় সব রাজনৈতিক ভেলকি। মনিরুল ও নয়নের এগুলো বাক্তিগত ঝামেলাকে বিরাট ইস্যু করে একটি চক্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সানশাইন / শামি