সর্বশেষ সংবাদ :

প্রত্যক্ষদর্শী নিরবের লোমহর্ষক বর্ণনা ফিল্মি স্টাইলে খুনের পর ছুরি হাতে পালায় রুবেল

আক্কেলপুর প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী মিতু আক্তার (৩৪) এবং খালা শাশুড়ি আলেয়া বেগম (৫২) কে চুরিকাঘাতে খুনের পর ছুরি হাতে নিয়ে পায়ে হেঁটে গ্রামের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক রুবেল।
প্রবাসী শাশুড়ির পাঠানো তিন লক্ষ টাকা না পেয়ে স্ত্রীর সাথে বিবাদের এক পর্যায়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে। পরে চিৎকার শুনে মিতুর খালা আলেয়া বেগম ও খালাতো ভাই নীরব পাশের বাড়ি থেকে এগিয়ে আসলে তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় রুবেল। ঘটনাটি সোমবার দুপুরে উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের হলহলিয়া গ্রামে ঘটেছে।
এ ঘটনায় নিহত মিতুর খালাতো ভাই বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রুবেলের বাড়ি পাশের নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে হলেও তিনি ১২ বছর আগে মিতুর সাথে বিয়ের পর ঘরজামাই থাকতেন। রুবেল স্ত্রী মিতুর উপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন। মিতুর মা কমেলা বেগম দীর্ঘ দিন থেকে গৃহপরিচারিকা হিসাবে সৌদি আরব থাকেন। সেখান থেকে মেয়েকে নিয়মিত টাকা পাঠাতেন তিনি। কয়েকদিন আগেও প্রবাস থেকে অগ্রণী ব্যাংকে মিতুর অ্যাকাউন্টে তিন লাখ পাঠায় তার মা। সেই টাকার উপর চোখ পড়ে জামাই রুবেলের। কিন্তু স্ত্রী মিতু স্বামীকে সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ বাধে।
এরই জের ধরে স্বামী রুবেল হোসেন তার স্ত্রী মিতু আক্তারকে গরু জবাই করা ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। তার আর্তচিৎকার শুনে মিতুর খালা আলেয়া বেগম ও খালাতো ভাই নীরব পাশের বাড়ি থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে নিরব তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তখন তাদেরকেও ছুরিকাঘাত করে ছুরি নিয়ে গ্রামের মধ্যে দিয়ে পালিয়ে যায় রুবেল। ছুরিকাঘাতের পর মিতুর খালা আলেয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। তবে মিতু প্রায় ঘন্টা খানেক সময় বেঁচে ছিলেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে পথিমধ্যে তারও মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিরব বেঁচে গেলেও ছুরির আঘাতে তাঁর হাতে গুরুতর জখম হয়। এই জোড়া খুনের বিষয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নিরব হোসেন বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির সাথে ঝড় হচ্ছিল। ওই দিন দুপুরে সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে টাকার জন্য তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের এক পর্যায়ে আমার খালাতো বোন মিতুকে সে পাষন্ডের মতো ছুরিকাঘাত করে। রক্তাক্ত হয়ে আমার বোন ছটফট ও চিৎকার করতে থাকে। পাশের বাড়ি থেকে চিৎকার শুনে আমার মা গেলে তার পেটেও ছুরি মারে ওই পাষন্ড রুবেল। এরপর আমি গেলে আমাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত করে। আমি প্রতিহত করার চেষ্টা করলে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের পাশাপাশি দুই হাত গুরুতর ভাবে কেটে যায়। বৃষ্টির কারনে বাহিরে কেউ না থাকায় অনায়াসে সে ছুরি হাতে নিয়ে গ্রামের পথ ধরে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই আমার জরুরীভাবে হাতের অপারেশন হয়। ঘটনাস্থলেই আমার মা মারা যায় এবং বগুড়া নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই মিতু মারা যায়।
নিহত মিতুর মামা খাইরুল ইসলাম বলেন, ঘাতক রুবেল আগে থেকেই উগ্র মেজাজের ছেলে ছিল। সে কথায় কথায় চাকু ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিত। আমি অনেকবার তাদের বিচার শালিশও করে দিয়েছি। আমার বোনের পাঠানো তিন লাখ টাকা সে না পেয়ে এই নৃশংস দুটি খুন করে পালিয়েছে সে। আমরা এর বিচার চাই।
মামলার বাদি সজিব আকন্দ বলেন, রুবেল তিন জনকে চাকু দিয়ে আঘাত করেছে। মিতুর খালা আলেয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে মারা যায় মিতু। তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক দিন থেকে বনিবনা হচ্ছিল না। হত্যা কান্ডের পর ঘাতক পালিয়েছে। মঙ্গলবার থানায় মামলা করা হয়েছে।
ময়না তদন্ত শেষে মরদেহগুলি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে জানিয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন হোসেন বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় নিহত মিতুর অপর খালাতো ভাই সজিব আকন্দ বাদি হয়ে মঙ্গলবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামীকে গ্রেপ্তার করতে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।


প্রকাশিত: May 30, 2024 | সময়: 5:23 am | সুমন শেখ

আরও খবর