, , ।
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি দিয়ে মাথায় কাফনের কাপড় পরে প্রকাশ্যে হাতে অস্ত্র নিয়ে সিনেমা স্টাইলে মহড়া দিয়ে জনমনে আতংকের সৃষ্টি করেছেন বিতর্কিত ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি ওরফে ‘হুপ বাপ্পি’। সে সময় তার সাথে ছিলেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা। তারা দু’জনেই পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের একনিষ্ঠ কর্মী।
সোমবার বিকালে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিলেও রাত ৯টা পর্যন্ত থানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন কর্মসূচি চলে। সে সময় তারা পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।
এদিকে সোমবার রাতেই আলোচিত ওই জুবায়ের হোসেন বাপ্পিকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার ১৮ আগষ্ট বিকালে ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিএনপি একাংশের নেতাকর্মীরা। সে সময় তারা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। সে সময় পুলিশের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থানা পরিদর্শনে ছিলেন।
মাথায় কাফনের কাপড় ও হাতে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি প্রদানের লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মেহেদী হাসানের কর্মী-সমর্থকরা থানার সামনে জড়ো হলে অবস্থার বেগতিক দেখে থানার ভেতরে অবস্থান নেন জুবোয়ের হোসেন বাপ্পি। সে সময় থানা গেটের সামনেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা হুপ বাপ্পি ও সুলভ মালিথার গ্রেফতার দাবী জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী, থানা ও স্থানীয় বিএনপির একাধিক সুত্র জানায়, সাবেক বিতর্কিত ছাত্রনেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পি পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের একান্ত ঘনিষ্টকর্মী। তাঁর পক্ষেই শহরে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিপক্ষ ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাই স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান এবং পাবনা-৪ আসনের এমপি পাবনা জেলা জামায়াত ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যা ভিত্তিহীন উস্কানিমুলক বক্তব্য প্রদান করে আসছিলেন। এসব নিয়ে ঈশ্বরদী শহরে চরম উত্তেজনা চলে আসছিল।
সোমবার বিকালে জুবায়ের হোসেন বাপ্পি মাথায় কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে শর্টগান নিয়ে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুলভ মালিথাসহ বেশ কয়েকজনকে সঙ্গে করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এক পর্যায়ে ঈশ্বরদী শহরের রেলগেটে অবস্থান নিয়ে হাতে থাকা শর্টগান উঁচিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসানকে হত্যার হুমকি প্রদান করে। তার এই পুরো মহড়া নিজের সহযোগিদের দিয়ে লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন। এই ঘটনায় শহরে চলাচলকারী জনসাধারণের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে মেহেদী হাসানের কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হলে অবস্থার বেগতিক দেখে থানায় অবস্থান নেন জুবোয়ের হোসেন বাপ্পি। সেখানেও পুলিশের সাথে উত্তপ্ত কথাবার্তা বলেন তিনি। এই ঘটনা প্রকাশ হয়ে পড়লে মেহেদী হাসানের শত শত কর্মী-সমর্থক নারী ও পুরুষ থানা গেটে অবস্থান নিয়ে জুবায়ের বাপ্পির শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার ও ওসি আসাদুর রহমান তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদালের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, জেলা বিএনপির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সদ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তার সন্ত্রাসী জুবায়ের হোসেন বাপ্পি ও সুলভ মালিথাকে দিয়ে আমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছেন। এই জন্য আমাকে হত্যার হুমকি প্রদান ও চেষ্টার করার বিষয়ে বাপ্পি ও সুলভ মালিথার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরও কিভাবে তাকে পুলিশ ছেড়ে দিল এটা তার বোধগম্য নয়।
এই বিষয়ে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, অস্ত্রটি জুবায়ের হোসেন বাপ্পির লাইসেন্সকৃত অস্ত্র। কিন্তু সে আইন ভঙ্গ করে প্রকাশ্যে অস্ত্রহাতে শহরে মহড়া দিয়ে পুলিশকে আইন শেখাতে থানায় এসেছে। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে জনসাধারণকে ভীত করার অপরাধে তার অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার বিএনপি একটি অংশের কয়েক’শ নেতাকর্মী থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। সে সময় বিএনপি নেতা ইসলাম হোসেন জুয়েল, আনোয়ার হোসেন জনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অসংখ্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।