সর্বশেষ সংবাদ :

এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার: বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের সমালোচনা এবং চলমান পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভয়াবহ বন্যার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। অনেকের বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া মানবিক নয় এবং এটি শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।
এ সময় তারা সাম্প্রতিক বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার অভিযোগ তুলে বলেন, প্রশ্ন প্রণয়ন ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় একের পর এক ত্রুটি দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা মন্ত্রীর বিভিন্ন সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন এবং তার পদত্যাগের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা না করে পরীক্ষার সময়সূচি বহাল রাখা অমানবিক।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, পানিবন্দি অবস্থায় পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী দিনের পরীক্ষাগুলো অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে।
জুবায়ের নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা পরীক্ষা দিতে চাই, কিন্তু সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। যারা বন্যাকবলিত এলাকায় রয়েছে, তারা কীভাবে পরীক্ষা দেবে? মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত।” আরেক শিক্ষার্থী মাহফুজ বলেন, “প্রশ্নপত্রে ভুল হচ্ছে, আবার বন্যার মধ্যেও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। আমরা এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে এখানে এসেছি। আমাদের দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।” বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত তাদের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী দিনের পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে রাজশাহীসহ দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডেও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
পরবর্তীতে বিকেল নগরীর জিরো পয়েন্ট মোড়েও বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন শিক্ষার্থীরা, এইসময় সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল এবং শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলেও বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। দুপুরে শিক্ষার্থীরা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। সকালে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পরীক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিরালা মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সেখান থেকে আবারও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও অংশ নেন।এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, গতকালের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান তারা।
তারা আরও জানান, ৩ ঘন্টার মধ্যে দাবি না মানলে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
নাটোর: সারা দেশের ন্যায় নাটোরেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ সহ বিভিন্ন দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের কানাইখালী প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নাটোরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিবাদ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কারণে অনেক পরীক্ষার্থী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত না করায় বহু শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ ঘটনার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায় বলে দাবি করেন।
নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আশিকুর রহমান তাহালিল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব নিতে হবে।’ একই কলেজের শিক্ষার্থী জেমিমা তাবাসসুম বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের পরিবর্তে শুধু পরীক্ষা ব্যবস্থার দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে তার পদত্যাগ করা উচিত।’ দিঘাপতিয়া এম. কে. কলেজের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিভিন্ন মন্তব্য আমাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া প্রশ্নপত্রে ভুলসহ নানা অনিয়মের দায়ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।’
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের ৮ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


প্রকাশিত: July 15, 2026 | সময়: 3:56 am | সুমন শেখ

আরও খবর