সর্বশেষ সংবাদ :

বিএনপির দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ঈশ্বরদী

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিনত হয় পাবনার ঈশ্বরদী। বিএনপির বিবাদমান দুই গ্রুপের হামলা-পাল্টা হামলা, গুলি বর্ষণ, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সহ বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এসময় উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে ৮-১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। সোমবার দুপুরে ঈশ্বরদী রেলগেট থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষের সময় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়।
সে সময় বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা ২টি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ এবং ৮ থেকে ১০ টি মোটর সাইকেল ভাংচুর করেন। সেই সাথে বিএনপি নেতা রেজাউল করিম ভিপি শাহীনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের অভ্যন্তরে ভাংচুর করে। সংঘর্ষের সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দোকানপাট বন্ধ করে দেয় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এসময় শহরের যান চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়।
আহতরা হলেন সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল, লিটন, জাকারিয়া, আলমগীর, নাজমুল, নাসির, চঞ্চল, নান্টু, সেন্টু, আশরাফুজ্জামান, কামরুল ইসলামের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা গেছে। এরা সবাই হাবিব গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
আর জাকারিয়া পিন্টু গ্রুপের মধ্যে মনোয়ার, রাজিব, অন্তর, কবির, পলাশ, আক্তার, শরিফ, শিহাব, ফজলু, জুয়েল সহ অন্তত ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। এরা সবাই স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদল ও ছাত্রদল কর্মী।
ঈশ্বরদী থানা ও স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মার্চ রাতে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ রউফ আব্দুলকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে শহরের ফতেমোহাম্মদ পুর এলাকায় উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পাবনা ৪ আসনের ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব সমর্থিত কর্মীরা। তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিলে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এর পরদিন আব্দুলের স্ত্রী স্বামীকে হত্যাচেষ্টার মামলা করতে চাইলে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ মামলা না নিলে সেটা নিয়ে জাকারিয়া পিন্টু সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারই প্রতিবাদে সোমবার ২৩ মার্চ সকালে ঈশ্বরদী রেলওয়ে গেটস্থ বাস টার্মিনাল থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শহরের পোস্ট অফিস মোড় হয়ে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও জাকারিয়া পিন্টু সমর্থিত রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলন শেষে পিন্টু সমর্থিত নেতাকর্মীরা রেলওয়ে গেটে ফিরলে শহরের পোস্ট অফিস মোড়স্থ রেজাউল করিম ভিপি শহীনের কার্যালয় থেকে একটি মিছিল রেলওয়ে গেট অভিমুখে রওনা করেন হাবিব সমর্থিত নেতা কর্মীরা।
এসময় ঈশ্বরদী থানা ফটকে পুলিশ তাদের রেলওয়ে গেট অভিমুখে না যেতে অনুরোধ করলে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা রেলওয়ে গেটে যায় এবং ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের সন্ত্রাসী উল্লেখ করে উষ্কানিমূলক নানা স্লোগানকে কেন্দ্র করে সেখানে থাকা জাকারিয়া পিন্টু সমর্থিত নেতাকরর্মীদের সাথে বিতন্ডায় জরিয়ে পড়েন। পরে সেখানেই দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ বেঁধে যায়।
পিন্টু সমর্থিত নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, সেসময় থানা ফটকের দিক থেকে হাবিব সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যথেকে পিন্টু সমর্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পিন্টু সমর্থিত নেতাকর্মীদের ধাওয়ায় হাবিব সমর্থিত কর্মীরা পিছু হটলে উপস্থিত কর্মীরা বেশ কিছু মোটর সাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষ প্রতিহত করতে গেলে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার গুরুতর আহত হন। পরে পুলিশ এবং সেনাবাহীনির সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাসনিম তামান্না স্বর্ণা জানান, ইট ও পাথরের আঘাতে আসা প্রায় ৩০-৩৫ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, পরিস্থিত আপাতত নিয়ন্ত্রনে রযেছে। সংঘর্ষ এড়াতে শহরের বিশেষ বিশেষ স্থানে পুলিশকে পাহারায় রাখা হয়েছে। এছাড়া শহরে সেনাবাহীনি ও র‌্যাব সদ্যদের টহলে রাখা হয়েছে।


প্রকাশিত: March 25, 2026 | সময়: 4:55 am | সুমন শেখ